ছবি: শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠক দীর্ঘ সাড়ে ১২ ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এ বৈঠকে দলীয় কৌশল, নীতি প্রণয়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাপক আলোচিয়া হয় বলে জানা যায়। সকালে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হওয়া বৈঠক রাত গভীর পর্যন্ত চলতে থাকে, যেখানে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্ব, নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেলসহ উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন, পলিসি পেপার তৈরি, মাঠ পর্যায়ে প্রচারণার কৌশল, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে ভোটের আগে নিরাপদ পরিবেশ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে দলের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে আরও আলোচিত হয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সংগঠিত প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দলের আমিরের সফর পরিকল্পনা, যা নির্বাচন পর্যন্ত ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে নীতিগত বিষয়গুলোতে আলোচনা শেষ হওয়ার পর দলীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও অংশ নেন, যেখানে নারী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ও তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল, ভোট পর্যবেক্ষণ, এবং নীতিগত অবস্থান নিয়েও দলীয় নেতৃত্ব পর্যালোচনা করেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটি এবার নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ, জোটগঠন বা একক কৌশল—কোন পথে যাবে তা এখনও প্রকাশ না করলেও রুদ্ধদ্বার আলোচনা দলীয় সিদ্ধান্তের সংকেত বহন করছে। বৈঠকের দীর্ঘ সময় এবং বিস্তৃত এজেন্ডা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের অবস্থান ও ভবিষ্যত কৌশল চূড়ান্তকরণের পর্যায়ে রয়েছে। যদিও বৈঠকের বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিবন্ধন, ইশতেহার এবং নির্বাচনী যুক্তি উপস্থাপনের প্রস্তুতি দলটির রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, নির্বাচন কাঠামো, পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া এবং গঠনমূলক রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দলীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ। পুরো বৈঠকজুড়ে দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের গতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল কতটা সক্রিয় হবে এবং কোন কৌশলে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করবে—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
repoter

