ছবি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের নবীনগর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার বিকেলে
প্রশাসন যদি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাহলে আবারও ৫ আগস্টের মতো গণআন্দোলন গড়ে উঠবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কালো টাকা, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জবাব দেবে।
বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের নবীনগর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনার আশপাশে দেখবেন, অনেকেই টাকাপয়সা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। গত দেড় বছরে চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজির যে টাকা হয়েছে, তা এখন নির্বাচনে ঢালছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, নবীনগরের মানুষ ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এই চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
প্রশাসনের উদ্দেশে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের ভাইয়েরা, আপনারা যদি বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যান, আবার ৫ আগস্ট নেমে আসবে। জনগণ অন্যায় মেনে নেবে না।’
এই আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী আমজাত হোসাইন (রিকশা প্রতীক) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর পক্ষে ভোট চেয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সারা দেশে এক ধরনের বিপ্লব তৈরি হয়েছে। কেউ ধানের শীষের মিছিল করছে, কেউ ফুটবল মার্কায় মিছিল দিচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে মানুষ রিকশা মার্কাতেই সিল মারবে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। যে ছেলে চাঁদাবাজি করে, যে লোক টেন্ডারবাজি করে—তারাও চায়, তাদের সন্তান যেন টেন্ডারবাজমুক্ত সমাজে বড় হয়।’
প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। দেশপ্রেমিক শক্তিই যেন ক্ষমতায় আসে। কিন্তু আবার কিছু লোভী বেনজীর, হারুন ও বিপ্লবের মতো চরিত্র মাথাচাড়া দিচ্ছে।’
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রিয় পুলিশ ভাইয়েরা, বেনজীর-হারুনদের কাছ থেকে শিক্ষা নিন। কোনো এসপি, ওসি বা এসআইয়ের জন্য যেন টাকা রাখতে না হয়—এমন নির্বাচন আমরা দেখতে চাই। কেউ যদি হারাম টাকা স্পর্শ করে, মনে রাখবেন আপনাদের সন্তান ও পরিবার আছে। আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে।’
গণমাধ্যমের প্রতিও সতর্কবার্তা দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যদি মিডিয়া নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তাহলে জনগণ এবার গণমাধ্যমকেও লাল কার্ড দেখাবে।’
নবীনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. মোবারক হোসাইন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী আবদুল বাতেন এবং জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি এমদাদুল হক সিরাজী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নবীনগরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিভিন্ন দল ও জোটের সভা-সমাবেশে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, কালো টাকা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
reporter


