ছবি: বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম, ভোট কারচুপি ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়, যেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটগ্রহণের সময়কার নানা অভিযোগ এবং নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা নির্বাচন চলাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ, ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়গুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনে তুলে ধরেন। জোটের নেতারা জানান, বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণে অনিয়ম, ভোটারদের বাধা প্রদান, প্রভাব বিস্তার এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তারা কমিশনের কাছে উত্থাপন করেছেন। তারা আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বার্থে এসব অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা জরুরি এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংসদ গঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং জানানো হয় যে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জোটের নেতারা। জোটের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, কমিশন তাদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়। তারা আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করতে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠক শেষে জোটের নেতারা বলেন, তারা কমিশনের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখবেন এবং নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত তাদের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য কমিশনের কাছে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরবেন, যাতে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়।
reporter




