ঢাকা,  শনিবার
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

চূড়ান্ত ফলে কার কত আসন

reporter

প্রকাশিত: ১০:৪৬:৪৫পূর্বাহ্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৪৬:৪৫পূর্বাহ্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং বিজয়ীদের গেজেট দ্রুত প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যারা এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের এক সময়ের মিত্র হলেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন লাভ করেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী মোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল প্রকাশিত হয়েছে; আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল পরে ঘোষণা করা হবে এবং প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ঘোষিত ২৯৭ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ, যা ২৯৯ আসনের সমন্বিত ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি ও ফলাফলের পরিসংখ্যান নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ২০৯ এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি আসন। ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে মামলার কারণে আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় কে শপথ পড়াবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসি কমিশনার আবদুর রহমান জানিয়েছেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত বা অসমর্থ হলে নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন দিন পর থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাতে পারবেন। কমিশনার মাছউদও একই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ইসির কাজ হলো গেজেট প্রকাশ করা; এরপর সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সামনে রমজান থাকায় দ্রুত শপথ আয়োজন ও সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন অথবা রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর সরকার গঠন, শপথ অনুষ্ঠান ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন পর্বের সূচনা হয়েছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি দ্রুত সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং অন্যান্য দলও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে।

reporter