ছবি: ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একে “বাংলাদেশের বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর এই বিজয় এসেছে এবং এটি কেবল একটি দলের নয়, বরং পুরো জাতির অর্জন।
নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ২৯৯টি সংসদীয় আসনে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভোটের পাশাপাশি গণভোটও সম্পন্ন হয়। শুক্রবার সকাল নাগাদ পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ১৬০টির বেশি আসনে জয়ী হয়েছে। এতে জাতীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। এই ব্যবধান আসনটিতে তাঁর দৃঢ় অবস্থানকেই তুলে ধরেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিজের পোস্টে মির্জা ফখরুল সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের লাখো শহীদ, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বকে। পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন প্রয়াত নেতা-কর্মী, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের এবং সাম্প্রতিক সময়ের আন্দোলনে নিহতদের।
তিনি দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরিবারকেও পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ দেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য।
গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা হিসেবে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার কোনো ধরনের বিজয় মিছিল বা আনন্দ শোভাযাত্রা না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিবর্তে বাদ জুম্মা নিজ নিজ এলাকায় দোয়া মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আহ্বান রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে এবং সহিংসতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, কোথাও ভূমিধস জয়, আবার কোথাও অপ্রত্যাশিত পরাজয়। বেশ কয়েকটি আসনে নারী প্রার্থীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আলোচিত হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু আসনে ‘না’ ভোটের ফলাফল নিয়েও আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশন কয়েকটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতন্ত্রের চর্চা ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির প্রশ্নে যে বিতর্ক চলছিল, এই নির্বাচন তার একটি বড় পরীক্ষাক্ষেত্র ছিল। বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের এগিয়ে থাকা নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সবশেষে মির্জা ফখরুল লিখেছেন, দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তিনি জনগণের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেন এবং জনগণের জন্য কাজ করতে পারেন। তাঁর এই বার্তা শুধু বিজয়ের উচ্ছ্বাস নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও সংযমের একটি রাজনৈতিক ভাষ্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
reporter



