ছবি: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশবাসীর প্রতি উৎসবমুখর ও নির্ভীকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের চাবি এখন জনগণের হাতে, আর সেই চাবি সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই নতুন বাংলাদেশের দুয়ার খুলে যাবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি নাগরিকদের দলে দলে, পরিবারসহ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, একটি ভোট শুধু সরকার নির্বাচন করে না, বরং একটি জাতির পথনির্দেশ ঠিক করে দেয়।
আসন্ন ভোটের দিনকে তিনি “নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, যদি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে এই দিনটি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের উৎসব বাস্তবে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভাষণে তরুণ ভোটারদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। অনেকেই এমন বাস্তবতায় বড় হয়েছে, যেখানে ভোটের আয়োজন ছিল, কিন্তু ভোটের অর্থ ছিল না। এই বঞ্চনার মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন তাদের প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণ। তাদের স্বপ্ন, মেধা ও শক্তিই আগামী বাংলাদেশের ভিত্তি। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে এই ভোটের মাধ্যমে তারা নিজেদের কণ্ঠস্বর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারবে।
নারী ভোটারদের প্রতিও আলাদা আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব গণআন্দোলনে নারীরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও নারীরা ছিলেন সম্মুখসারিতে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, ক্ষুদ্রঋণ ও কুটির শিল্পে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি উল্লেখ করেন, পরিবার ও সমাজ টিকিয়ে রাখতে নারীরা ঘরে ও বাইরে সমানভাবে সংগ্রাম করেছেন, কিন্তু দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই নির্বাচন নারীদের জন্য একটি নতুন সূচনা এবং সমান অংশগ্রহণের সুযোগ বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ভয়কে পেছনে রেখে সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়াই এখন সময়ের দাবি। এই ভোট ১৭ বছরের দমন, অবদমন ও গণতান্ত্রিক শূন্যতার জবাব দেবে এবং প্রমাণ করবে যে দেশের জনগণের কণ্ঠ আর কখনো স্তব্ধ করা যাবে না।
ভাষণের শেষে তিনি দেশবাসীর জন্য দোয়া কামনা করেন এবং সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
reporter


