ছবি: বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে জড়ো হতে শুরু করেন ভোটাররা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় রূপ নেয় দীর্ঘ লাইনে। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রেই সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবার নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন, কেউ প্রতিবেশীদের সঙ্গে দল বেঁধে ভোট দিতে হাজির হয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে প্রবীণ ভোটারদের সরব অংশগ্রহণ যেমন নজর কাড়ে, তেমনি প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের উচ্ছ্বাসও ছিল স্পষ্ট। কোথাও কোথাও প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তা করতে দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনদের।
নির্বাচনে এবার অংশ নিচ্ছে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। প্রধান দলগুলোর পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। এই প্রতিযোগিতামূলক মাঠ ভোটারদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু কেন্দ্রে প্রথম দেড় ঘণ্টার মধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর বাইরেও একই চিত্র—রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। গ্রামাঞ্চলেও ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। অনেক কেন্দ্রে নারীদের জন্য আলাদা লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। প্রবীণ নারীরা লাঠি বা অন্যের সহায়তায় কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন—এমন দৃশ্যও দেখা গেছে বিভিন্ন স্থানে। এতে করে ভোটের পরিবেশ আরও মানবিক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে চলছে। কোথাও কোথাও ছোটখাটো কারিগরি বা প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু নতুন সংসদই গঠিত হচ্ছে না, একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন পর এমন অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে, তাদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হবে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সার্বিক উৎসবের আমেজ এই নির্বাচনকে স্মরণীয় করে রাখবে—এমন আশাই করছেন অনেকেই।
reporter



