ঢাকা,  শনিবার
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

হারলেন যেসব হেভিওয়েট

reporter

প্রকাশিত: ১১:১২:১৪পূর্বাহ্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:১২:১৪পূর্বাহ্ন, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতির মাঠে আলোচিত ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গণমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী—সব মিলিয়ে যাঁরা নির্বাচনের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হতে পারেননি। বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরাজিতদের তালিকায় রয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না, মিয়া গোলাম পরওয়ার, হামিদুর রহমান আজাদ, শিশির মনির, মামুনুল হক, ব্যারিস্টার ফুয়াদ, সাইফুল হকসহ আরও কয়েকজন পরিচিত মুখ। নাগরিক ঐক্য–এর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে কেটলি প্রতীকে নির্বাচন করে মাত্র ৩ হাজার ৪২৬ ভোট পেয়ে জামানত হারান, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর প্রার্থী মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান পান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট পেলেও ধানের শীষ 🌾 প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবির কাছে ২ হাজার ৭০২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান; সেখানে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পান। সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী হওয়া শিশির মনির ৫৭ হাজার ৮৫৮ ভোট পেয়ে ধানের শীষ 🌾–এর প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন, যিনি পান ৯৭ হাজার ৭৯০ ভোট। ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ–এর যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের কাছে হেরে যান। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদ ৫৭ হাজার ১৪৯ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী জয়নুল আবেদীনের (৭৮ হাজার ১৩১ ভোট) কাছে প্রায় ২১ হাজার ভোটে পরাজিত হন। ঢাকা-১২ আসনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি–এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট পেয়ে জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলমের (৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট) কাছে হেরে যান। অন্যদিকে বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিজয়ের গুজব ছড়ালেও পরে তিনি নিজেই জানান যে তিনি বিজয়ী হননি, যদিও উল্লেখযোগ্য ভোটপ্রাপ্তি তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানকে জোরালো করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে, মাঠের রাজনীতিতে প্রভাব, বক্তৃতা-বিবৃতি কিংবা অনলাইন জনপ্রিয়তা সবসময় ভোটের ফল নির্ধারণ করে না; বরং স্থানীয় সংগঠন, জোট সমীকরণ ও ভোটারদের সরাসরি সমর্থনই শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।

reporter