ছবি: বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে বাড়িমুখো মানুষের যাত্রা চললেও এবার তাতে বড় ধরনের ভোগান্তি দেখা যাচ্ছে না। বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তির সঙ্গে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। আগের দিনের তুলনায় ভিড় কম, বাসের সংকট নেই এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপথ মোড়, উত্তর যাত্রাবাড়ী, দোলাইপার, শনির আখড়া ও রায়েরবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে নিয়মিত বাস চলাচল করছে। কুমিল্লা, বরিশাল, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ, চট্টগ্রাম, লাকসাম, খুলনা, সিলেট ও লক্ষ্মীপুরসহ নানা গন্তব্যে বাস ছাড়লেও অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রী পূর্ণ না হয়েই গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। এতে যাত্রীরা সহজেই বাসে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন।
মঙ্গলবার এই চিত্র ছিল ভিন্ন। সেদিন সায়েদাবাদ এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, বাস সংকট এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন এবং কেউ কেউ নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বুধবার পর্যাপ্ত বাস থাকায় সেই চাপ অনেকটাই কমে গেছে।
বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, যাত্রীর সংখ্যা কম থাকায় কাউন্টার কর্মীদের যাত্রী ডাকাডাকি করতে দেখা গেছে। একটি কাউন্টারের কর্মী জানান, মঙ্গলবার যে ভিড় ছিল, তা ঈদের সময়ের ভিড়ের সঙ্গেও তুলনীয়। সারারাত বাস ছাড়তে হয়েছে, কিন্তু বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।
ভিড় কম থাকায় যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। বরিশালগামী এক যাত্রী জানান, সাধারণ সময়ের ভাড়ার কাছাকাছি দামেই তিনি টিকিট নিতে পারছেন এবং কিছুটা ছাড় পাওয়ার চেষ্টাও করছেন। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরে ভোট দিতে যাওয়া এক ব্যবসায়ী বলেন, ভোগান্তির আশঙ্কায় আগের দিন যাত্রা করেননি। বুধবার এসে তিনি দেখেছেন, পরিবেশ শান্ত এবং ভাড়াও স্বাভাবিক।
যদিও সকালবেলায় যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল, কাউন্টার কর্তৃপক্ষের ধারণা—বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলে তারা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে পরবর্তী শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি পাচ্ছেন। এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগে অনেকেই আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
সব মিলিয়ে ভোটকে ঘিরে মানুষের যাতায়াতে এবার তুলনামূলক শৃঙ্খলা ও স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিবহন, নিয়ন্ত্রিত ভাড়া এবং কম ভিড়ের কারণে নির্বাচন-পূর্ব যাত্রা অনেকের কাছেই সহজ ও ভোগান্তিহীন হয়ে উঠেছে।
reporter


