ছবি: ফাইল ছবি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এই নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা সরাসরি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপ নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতেই এই বিপুল জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে দায়িত্ব পালন করবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার এবং ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। তাঁরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনার জন্য সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের সহায়তায় থাকবেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার।
সব মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন। এই বিপুল জনবল মোতায়েনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এবার সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ২৭৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র এবং ২১ হাজার ৫০৬টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র থেকে পর্যায়ক্রমে ফলাফল পাঠানো হবে এবং রাতের মধ্যেই অধিকাংশ কেন্দ্রের ফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ফল প্রকাশ নিয়ে জটিলতা বা অনিশ্চয়তা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটের দিন ও তার আগে-পরে কিছু যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি ছুটি এবং টানা কয়েক দিনের অবকাশ থাকায় বহু মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাচ্ছেন। যাতায়াত ব্যবস্থাও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে, যা ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি, জনবল নিয়োগ এবং কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনা একটি বড় ও জটিল প্রশাসনিক কর্মযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় নতুন অধ্যায় সূচিত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছে সাধারণ মানুষ।
reporter




