ঢাকা,  শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৩৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ঈদ যাত্রায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী * প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে * সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায় * ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা

নতুন সংবিধানসহ ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা এনসিপির: ‘স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা’

reporter

প্রকাশিত: ০৭:১৫:৪৬অপরাহ্ন , ০৩ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০৭:১৫:৪৬অপরাহ্ন , ০৩ আগস্ট ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক ভারপ্রাপ্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। ৩ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি ঘোষণা করেন নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনা, যা শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং দেশের ফ্যাসিবাদী কাঠামো চিরতরে উৎখাত করার জন্য গৃহীত হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, গতকালকের গণহত্যা, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা—এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ীদের কঠোর বিচার ও শাস্তি এনসিপি নিশ্চিত করবে। তিনি আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে যেখানে গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, কল্যাণমুখী অর্থনীতি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, নতুন স্বাধীনতা কেবলমাত্র সরকার পতনের জন্য নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন পদ্ধতি ভেঙে ফেলার জন্য অর্জিত। তিনি বলেন, ‘এক দফা ঘোষক ছিলেন বাংলাদেশের জনগণ। আগে যে ৯ দফা ঘোষণা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’ বর্তমান কাঠামো থেকে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি সমালোচনা করেন, বিগত সরকারের শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে একতরফা ও স্বেচ্ছাচারী মতবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা দেশের গণতন্ত্র ও pluralism-কে হুমকির মুখে ফেলেছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা ২৪ দফার মাধ্যমে দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রূপরেখা উপস্থাপন করছি এবং জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

নাহিদ ইসলাম সরকার পরিবর্তনের জন্য ২০২৪ সালকে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন বাংলাদেশ গঠনে এক গভীর ও বিস্তৃত আন্দোলনের ডাক দেন। তিনি ফ্যাসিবাদ দূর করার আন্দোলনে যুক্ত সব পক্ষকে সম্মান ও স্মরণ করেন এবং একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারে রয়েছে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও দ্বিতীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের স্থাপন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং জনবান্ধব প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি।

এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহার হলো-

১। নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক

২। জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার

৩। গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার

৪। ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আইন সংস্কার

৫। সেবামুখী প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন

৬। জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

৭। গ্রাম পার্লামেন্ট ও স্থানীয় সরকার

৮। স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ

৯। সার্বজনীন স্বাস্থ্য

১০। জাতিগঠনে শিক্ষানীতি

১১। গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব

১২। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্বার মর্যাদা

১৩। নারীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন

১৪। মানবকেন্দ্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি

১৫। তারুণ্য ও কর্মসংস্থান

১৬। বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি

১৭। টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব

১৮। শ্রমিক-কৃষকের অধিকার

১৯। জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা

২০। নগরায়ন, পরিবহন ও আবাসন পরিকল্পনা

২১। জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা

২২। প্রবাসী বাংলাদেশির মর্যাদা ও অধিকার

২৩। বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি

২৪। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল

এছাড়াও স্থানীয় সরকার ও গ্রাম পার্লামেন্টের উন্নয়ন, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষানীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতিসত্বার মর্যাদা রক্ষাসহ নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণও তাদের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও কল্যাণমুখী, মানবকেন্দ্রিক অর্থনীতি গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ, বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন নীতি গ্রহণ এবং টেকসই কৃষি ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার রক্ষা, জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নগরায়ন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সহনশীলতা বৃদ্ধি, নদী ও সমুদ্র সংরক্ষণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল আধুনিকায়ন করাও তাদের তালিকায় আছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি নতুন সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে এবং দেশ স্বায়ত্তশাসিত ও গণতান্ত্রিক হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই ইশতেহার নতুন বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

এনসিপির এই উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে নতুন কর্মসূচির সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের

reporter