ছবি: Collected
দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্থা ও হুমকির অভিযোগ তুলে ১১টি ঘটনার সচিত্র তথ্য প্রকাশ করেছে দলটি। মঙ্গলবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত নারীরা—বিশেষ করে জামায়াতের নারী কর্মীরা—নিয়মিতভাবে হামলা, মারধর, অপমান, ভয়ভীতি ও সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। তিনি এ পরিস্থিতিকে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে একটি গভীর জাতীয় উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেন।
ডা. তাহের বলেন, আজ যাদের ওপর হামলা হচ্ছে তারা এক দলের নারী হলেও আগামীকাল তা অন্য যেকোনো দলের হতে পারে, এমনকি আমাদের নিজেদের পরিবার-পরিজনেরও হতে পারে। এই সহিংসতা অব্যাহত থাকলে রাজনীতি থেকে নারীদের ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়ার একটি ভয়ংকর প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, ঝিনাইদহ, ভোলা, মেহেরপুর ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ঘটনার কথা তুলে ধরা হয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব ঘটনায় নারী কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা, হিজাব টানাহেঁচড়া, মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রচারণায় বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক নারী আহত হয়েছেন।
ডা. তাহের বলেন, নারীর ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা কোনো দলীয় বিষয় নয়—এটি একটি জাতীয় মানবাধিকার সংকট এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারবিষয়ক ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এ বিষয়ে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দোষীদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে শাস্তি, নির্বাচনি প্রচারণায় নারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানান।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি প্রচারে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের মহিলা বিভাগ একটি নারী সমাবেশ আয়োজন করবে।
reporter




