ছবি: এসকান্দার মোমেনি
ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে পরিচালিত একাধিক কঠোর নিরাপত্তা অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মোমেনির সরাসরি ভূমিকা ছিল এবং তার তত্ত্বাবধানে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে অতিমাত্রায় বলপ্রয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার আওতায় মোমেনির যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্ভাব্য সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার সব ধরনের আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে, ইরানের অভ্যন্তরে অর্থপাচার ও অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ আরও কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার নামও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক ইরানি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালাতে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ডিজিটাল সম্পদ ও ভার্চুয়াল লেনদেন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ স্থানান্তরের প্রবণতা ইরানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, তেহরান এই পদক্ষেপকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে এবং আঞ্চলিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
reporter

