ঢাকা,  মঙ্গলবার
২৭ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৩:৫০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* ফুলের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ধানের শীষ প্রার্থী আমিনুল হক। * মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছেন ঢাকা–১৬-এর ধানের শীষ প্রার্থী আমিনুল হক * ধানের শীষের প্রচারণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে রাজধানীর রূপনগর–পল্লবী এলাকায়। * বিএনপি সব সময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে : রিজভী * জামায়াতের নায়েবে আমিরের বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের তীব্র প্রতিক্রিয়া * কৃষি ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করলেন তারেক রহমান * ‘অমানবিক রাষ্ট্র নয়, আমরা গড়তে চাই মানবিক বাংলাদেশ’—আমিনুল হক * নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ

কৃষি ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক পরিবর্তনের অঙ্গীকার করলেন তারেক রহমান

reporter

প্রকাশিত: ১২:২২:১৭অপরাহ্ন , ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১২:২২:১৭অপরাহ্ন , ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ছবি: সংগৃহীত ছবি

জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচনী তৎপরতা জোরদার হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান কাঠামোর আধুনিকায়নকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেছেন, দেশকে একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ ও উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক স্থিতি, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন একসাথে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে এবং বিভিন্ন অপরাধচক্রের বিস্তার গণসেবায় বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টি করেছে। তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং দখলবাজি, সহিংসতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। তিনি দুর্নীতি এবং মাদককে সমাজের প্রধান শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন শহর ও উপশহরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎকে নষ্ট করছে। কর্মসংস্থান সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত শিক্ষা নয়, আধুনিক দক্ষতা, বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদেরকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। তিনি ইমাম, খতিব, মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ধর্মীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্যও মানসন্মত প্রশিক্ষণ, হালাল আয়ের সুযোগ এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কৃষি খাতের উন্নয়নকে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবনের কথা বলেন এবং জানান, নদী ও খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে সেচ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হয়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে ক্ষতি করছে। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জলাশয় পুনঃসংস্কার, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ রাস্তাঘাট সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন সহজ করা হবে। তরুণদের উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে ছোট ও মাঝারি খাতে অর্থায়ন, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরির গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিল্প খাতের সাথে সমন্বয় জরুরি, যাতে পড়াশোনা শেষ করে তরুণদের অপেক্ষা করতে না হয় চাকরির জন্য। নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নিতে গিয়ে তিনি জনগণের সাথে কথা বলেন, তাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশা শোনেন এবং দাবি করেন, বহু বছর ধরে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে আছে, যা পরিবর্তন করতে হলে স্বচ্ছ ভোট ও জবাবদিহির রাজনৈতিক কাঠামো প্রয়োজন। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো জনগণের ক্ষমতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। তিনি দেশে অব্যবস্থাপনা, ধীরগতির অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য এবং স্বাস্থ্যসেবার সংকট দূরীকরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হতে থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব ইশতেহার, দাবি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে, তবে তারেক রহমানের বক্তব্যে কৃষি, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে আসে এবং জনগণের উন্নয়নকেন্দ্রিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

reporter