ছবি: মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের এক সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং তা দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। ইসলামী আন্দোলনের দাবি, ওই বক্তব্যে দল সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে এবং বিদেশি কূটনৈতিক অঙ্গনে ভুল বার্তা পাঠানোর চেষ্টা হয়েছে, যা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে। ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ডা. তাহের দলটিকে ‘উগ্রবাদী’ বা ‘চরমপন্থা-সংশ্লিষ্ট’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক যাত্রা দীর্ঘদিনের এবং এটি সুফি-ধারা, দাওয়াতি ও সমাজ সংস্কারভিত্তিক শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন—যেখানে সহিংসতা বা উগ্রবাদী চর্চার কোনো স্থান নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা ‘ওয়ার অন টেরর’ ধারণাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রয়োগ করা দেশের জন্য ক্ষতিকর এবং তা জাতীয় স্বার্থ, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দলটি প্রশ্ন তোলে, কেন এমন সময়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হলো, যখন দেশে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিভিন্ন আলোচনাই চলছে। ইসলামী আন্দোলনের মতে, বিদেশি শক্তির সামনে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভুল তথ্য দিলে তা পারস্পরিক সন্দেহ বাড়ায়, রাজনৈতিক বিভাজন গভীর করে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয় ও জোটের সমীকরণকে জটিল করে তোলে। দলটি মনে করে, দেশের ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে পার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক ভদ্রতা ও রাষ্ট্রিক স্বার্থে কিছু নীতি বজায় রাখা উচিত, বিশেষত যখন বিদেশি কূটনীতিকরা জড়িত থাকে। তারা দাবি করে, তাদের রাজনীতি কখনোই গোপন, দ্বিচারিতা বা সহিংস প্রবণতার ওপর দাঁড়িয়ে নেই বরং সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং গত তিন দশকের বেশি সময়ে তা প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান, ভোটব্যাংক, ভবিষ্যৎ জোটের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। কেউ কেউ মনে করেন, বিদেশি কূটনার্থিকদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিনিময় ইতিমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠিত কাঠামো হয়ে উঠেছে, তবে সেখানে বাছাই করা তথ্য বা পক্ষপাতের ব্যবহার জনমত, রাজনৈতিক অ্যানালিটিক্স এবং নির্বাচনী কৌশলে বড় ভূমিকা রাখে। এতে ইসলামী আন্দোলন তাদের ইমেজ নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে এবং তারা চায় না যে কোনো বিদেশি শক্তির দৃষ্টিতে তাদের ভুলভাবে উপস্থাপন করা হোক। দলটি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দাবি করেছে এবং বলেছে, এমন বক্তব্য সত্য হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রভাবিত করতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই বিতর্ক নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইসলামী রাজনীতি কোন পথে এগোবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এর ভূমিকা কীভাবে পুনর্বিবেচিত হবে।
reporter




