ছবি: মাহফুজ আলম।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য ভিশন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলম। তিনি মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ কার্যত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হিসেবে কাজ করে এবং একটি শক্তি টিকে থাকলে অন্যটিও টিকে থাকে। তার মতে, এই দুই ধারার রাজনীতি পরস্পরবিরোধী মনে হলেও বাস্তবে তারা একই পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অংশ। মাহফুজ আলম বলেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গড়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব নয়, কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার, শ্রেণি ও সামাজিক প্রশ্নে দলটির অবস্থান অস্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হলে এমন বহু মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসবে, যেগুলোর সন্তোষজনক ও আধুনিক উত্তর তাদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে না। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তার প্রত্যাশা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি শক্তিশালী ‘তৃতীয় বিকল্প’ গড়ে ওঠা, যা পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন পথ দেখাতে পারত। তবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি পুরোনো বন্দোবস্তের অংশ হিসেবে জামায়াতের সঙ্গে জোটে গেলে সেই সম্ভাবনা ভেঙে পড়ে। ভবিষ্যৎ সরকারব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক করে মাহফুজ আলম বলেন, ক্ষমতায় যে দলই আসুক—বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কেউ—সমাজের ভেতরে জমে থাকা ক্ষত, বিভাজন ও অবিশ্বাস সারাতে না পারলে কোনো সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাগজে-কলমে সংস্কার যথেষ্ট নয়; ভিন্নমত, ভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাস ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া তৈরি না হলে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ারও পরিকল্পনা নেই। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনমুখী রাজনীতির জন্য উপযোগী নয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, হতাশ তরুণদের সঙ্গে আলোচনা, পাঠচর্চা ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে তিনি বোঝার চেষ্টা করবেন কেন জুলাই আন্দোলন প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারেনি এবং সামনে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পথরেখা প্রয়োজন। তার মতে, একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে হলে রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সমাজের সঙ্গে গভীর সাংস্কৃতিক পুনর্নেগোসিয়েশন অপরিহার্য।
reporter




