ছবি: সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদ (আইসিসি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্মকর্তাদের মধ্যে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ কাঠামো, আঞ্চলিক বাছাই পদ্ধতি এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের চাপা অসন্তোষকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। বৈঠকে বিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে বিশ্বকাপের দলসংখ্যা, কোয়ালিফাইং ব্র্যাকেট এবং কমার্শিয়াল রেভিনিউ শেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এমনভাবে নেওয়া হচ্ছে, যা স্বল্প-রাজস্ব বাজার বা ক্রিকেট অর্থনীতিতে তুলনামূলকভাবে ছোট দেশগুলোর জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছে। বিসিবির মতে, বিশ্বকাপের সুযোগ কমে গেলে অংশগ্রহণকারী দলের প্রচার, বাজার সম্প্রসারণ, সম্প্রচার অধিকার এবং স্পন্সরশিপ আকর্ষণের সুযোগও কমে যায়, যার ফলে ক্রিকেটে বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়তে পারে। অপরদিকে আইসিসির কর্মকর্তারা জানান যে বিশ্বকাপের ফরম্যাট সংকুচিত করা বা পুনর্গঠন করা হচ্ছে সম্প্রচারযোগ্যতা, সূচি ব্যবস্থাপনা, ভেন্যু ধারণক্ষমতা, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের সমন্বয় রাখার উদ্দেশ্যে, এবং ক্রিকেটের বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং ও প্রতিযোগিতার মান উন্নয়নের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। কথোপকথন চলাকালে বিসিবি সভাপতি বলেন যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় করতে অবদান রেখে আসছে, এবং তৃণমূল থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করেছে; তাই বাংলাদেশ বা অনুরূপ দেশগুলোর অংশগ্রহণ সংকুচিত হলে বৈশ্বিক বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দক্ষিণ এশিয়ার বাজার ক্রিকেটের মূল ভরকেন্দ্র হলেও এখানকার প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সঙ্গে সিদ্ধান্তগুলো সবসময় মিলছে না। আইসিসির পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি আসে যে বিশ্বকাপকে দীর্ঘায়িত করতে না চাওয়া, ফরম্যাটে বৈচিত্র্য আনা এবং কম ম্যাচে উচ্চতর প্রতিযোগিতা তৈরি করা এখনকার বাস্তব চাহিদা, এবং নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে ছোট টুর্নামেন্ট ও দ্রুতগতির সূচির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে বিসিবি কর্মকর্তারা বলেন যে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে হলে ক্রিকেটশক্তিগুলোকে বাড়তে দিতে হবে, সংকুচিত করতে নয়; আর বিশ্বকাপ হলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নতুন দেশ ও উদীয়মান বাজার নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পায়, যা ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, ফ্যানবেস এবং খেলোয়াড় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বৈঠক শেষে বিসিবির অনেকে জানান যে বিষয়টি শুধু টুর্নামেন্ট নয়, বরং ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ মানচিত্র এবং কারা সিদ্ধান্ত নেবে সেই প্রশ্নও জড়িত। তারা দাবি করেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যখন একদিকে বাণিজ্যিক চাহিদা দ্বারা চালিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্রিকেটের বিস্তার বজায় রাখতে বহুমুখী অংশীদারিত্ব প্রয়োজন; তাই বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোতে আরও স্বচ্ছতা, তথ্য-উন্মুক্ততা এবং স্টেকহোল্ডার অংশগ্রহণ দরকার। এদিকে ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা মনে করছেন যে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে, বিশেষ করে ফরম্যাট চূড়ান্ত করার সময় এবং সম্প্রচার অধিকার নবায়নকালে। কারণ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এখন শুধু একটি ক্রীড়া ইভেন্ট নয়, বরং ক্রিকেটের বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে দলসংখ্যা, ভেন্যু, ক্যালেন্ডার, স্পন্সরশিপ, সম্প্রচার এবং বাজার সম্প্রসারণ একই সুতোয় গাঁথা থাকে। বৈঠকের পরে উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে কোনো তীব্র মন্তব্য না করলেও ভিতরের আলোচনায় উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে উপস্থিত সদস্যরা ইঙ্গিত দেন, এবং ভবিষ্যত সিদ্ধান্তে দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে বিষয়টি আঞ্চলিক বিভাজন বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনেও গড়াতে পারে বলে ক্রিকেট মহলে আলোচনা চলছে।
Report By - Murad Hussain Liton.
reporter

