ছবি: সংগৃহীত ছবি
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন যে বিএনপি তার রাজনৈতিক দর্শন ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে সব সময় নিপীড়িত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এমনকি রাজনৈতিক বিরোধিতা, দমন-পীড়ন ও দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞার সময়েও তাদের মানবিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পথচলায় শুধু বক্তৃতা, সমালোচনা বা প্রতিপক্ষকে আক্রমণ নয়, বরং সমাজের প্রকৃত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা এবং সংকটে মানুষের পাশে থাকা বিএনপির মূল চরিত্রের অংশ। রাজধানীর মহাখালী এলাকায় দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন যে করোনা, বন্যা, তীব্র শীত বা বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু সত্ত্বেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রেখেছে, যা দলীয় রাজনৈতিক দর্শনকে মানবিক দৃষ্টিকোণে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির কর্মী ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো কোনো সময় আক্রমণাত্মক রাজনীতি, কুৎসা রটানো বা ভিডিও ভাইরাল করে প্রতিপক্ষকে হেয় করার মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়নি, বরং সমাজসেবা ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা দলটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং যোগাযোগ বজায় রাখা হলো বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে খালেদা জিয়া এবং বর্তমান নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দলটির কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়েছে। রিজভী আরও উল্লেখ করেন যে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময় নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ, আইনগত প্রতিবন্ধকতা ও প্রযুক্তিগত সেন্সরশিপের মধ্যে থেকেও তারেক রহমান জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরির মতো প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে দলীয় পরিকল্পনা তুলে ধরছেন, যা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট করে তোলে। রিজভী বলেন, বিএনপি রাজনীতি করে শত্রুতা নয়, বরং মানুষের কল্যাণের জন্য, এবং ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের মধ্যেও জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা দায়িত্ববোধ থেকে পিছিয়ে যায় না, বরং সংকট মোকাবিলায় আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। তার দাবিতে, দীর্ঘ অন্যায় শাসনামলে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে বাধা তৈরি হলেও দলটি প্রতিটি শীতে, বন্যায়, মহামারিতে ও সামাজিক বিপর্যয়ে পাশে থাকার চেষ্টা চালিয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। তিনি মনে করিয়ে দেন যে বিএনপির রাজনীতিতে কারও বিরুদ্ধে বিদ্বেষ সৃষ্টির প্রয়াস নেই, বরং সত্য ভিত্তিক পরিকল্পনা উপস্থাপন ও জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যে কোনো নির্বাচন বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় জনগণের প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার সঙ্গে দলের পরিকল্পনা সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে বিএনপি কাজ করছে, এবং সেই কারণে তরুণ, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ দলটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া চিকিৎসক সংগঠন ও অন্যান্য পেশাজীবীদের উপস্থিতি বিএনপির সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয়তা প্রমাণ করে, যা শুধু বক্তৃতা বা রাজনৈতিক বিবৃতিতে নয় বরং মাঠ পর্যায়ে বাস্তব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন, রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়, বরং মানুষের কাছে দায়বদ্ধতা ও সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করা। জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন যতই আসুক না কেন, মানুষের পাশে থাকা ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকাল থেকে চলমান নীতি, এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
reporter




