ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ মার্চ ২০২৬ , ১১:০০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* গণভোটের রায় বাতিলের চেষ্টা চলছে: নাহিদ ইসলামের অভিযোগ * মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি * জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * চিকিৎসাধীন অর্থমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে মির্জা ফখরুল * ইডেনে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁচা-মরার লড়াই * নতুন প্রজন্ম সব দেখছে, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী * ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক * মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য : জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রী * ঈদে ভাড়া বৃদ্ধি রোধে কড়া পদক্ষেপ নেবেন সড়ক, রেল ও নৌমন্ত্রী * ইরানে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল: বিস্তারিত প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বাংলাদেশের জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি

reporter

প্রকাশিত: ১১:৩৩:৩২পূর্বাহ্ন, ০৩ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১১:৩৩:৩২পূর্বাহ্ন, ০৩ মার্চ ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান QatarEnergy তাদের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার পর্যন্ত ওঠে। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও দ্রুত বেড়ে যায়।

উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বে উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান এ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে, ফলে শতাধিক তেল ট্যাংকার প্রণালীর বাইরে নোঙর করে আছে।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco-র রাস তানুরা শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং কোম্পানি Maersk বাব এল-মান্দেব ও সুয়েজ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময় বাড়ছে।

শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের NasdaqS&P 500 প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও ইউরোপের বাজারে বড় পতন হয়। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার বাড়লেও ব্যাংকিং খাত চাপে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।

বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। দেশের আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় ৪২ শতাংশ আসে কাতার থেকে। ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করে কাতার। উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, মার্চ মাসের অধিকাংশ কার্গো ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে এবং বিকল্প উৎস খোঁজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

reporter