ছবি: ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র প্রভাব ফেলেছে। হামলা-পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান QatarEnergy তাদের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে। অপরিশোধিত তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার পর্যন্ত ওঠে। একইসঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও দ্রুত বেড়ে যায়।
উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে বিশ্বে উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ইরান এ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে, ফলে শতাধিক তেল ট্যাংকার প্রণালীর বাইরে নোঙর করে আছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco-র রাস তানুরা শোধনাগারেও ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম কন্টেইনার শিপিং কোম্পানি Maersk বাব এল-মান্দেব ও সুয়েজ রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে বিকল্প দীর্ঘ পথ বেছে নিয়েছে, ফলে পরিবহন ব্যয় ও সময় বাড়ছে।
শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের Nasdaq ও S&P 500 প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও ইউরোপের বাজারে বড় পতন হয়। জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার বাড়লেও ব্যাংকিং খাত চাপে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে।
বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। দেশের আমদানিকৃত এলএনজির প্রায় ৪২ শতাংশ আসে কাতার থেকে। ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করে কাতার। উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, মার্চ মাসের অধিকাংশ কার্গো ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে এবং বিকল্প উৎস খোঁজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
reporter

