ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো মামলা: আদালতের পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ বিচারকের মন্তব্য: সম্মানহানির জন্য মামলা দায়ের করা হয়েছে

reporter

প্রকাশিত: ১১:০৬:৫৩অপরাহ্ন , ০২ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ১১:০৬:৫৩অপরাহ্ন , ০২ মার্চ ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম নাইকো দুর্নীতি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও তার সম্মান নষ্ট করার জন্য এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনকে এই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়। আজ রবিবার মামলাটির ১৩৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নাইকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার মামলাটি ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার মামলাটি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে চলমান ছিল। বিচারক রবিউল আলম তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি মামলা চলা উচিত ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়াকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও তার সম্মান নষ্ট করার জন্য।

মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, ১৯৯৯ সালের ২৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ছাতক, ফেনী ও কামতার অ-উৎপাদনকারী প্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে হাইড্রোকার্বন উন্নয়ন ও উৎপাদনের সমীক্ষার জন্য বাপেক্স ও নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিঃ এর মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এফওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর বাপেক্স ও নাইকো রিসোর্সেস বাংলাদেশ লিঃ এর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ চুক্তি (জেভিএ) স্বাক্ষরিত হয়। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া বা অন্য আসামীদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তারা কোনো দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ছিলেন না।

তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এই মামলায় আসামি সেলিম ভূইয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্যাতন করা হয়। রিমান্ডের সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। আদালত এই জবানবন্দিকে সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রদত্ত বলে মনে করেননি।

বিচারক তার রায়ে আরও উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত হবে কোনো মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধান সতর্কতার সাথে করা, যাতে কোনো নিরীহ ব্যক্তি রাষ্ট্রের দ্বারা হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি বলেছেন, এই মামলায় খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামীদের জড়ানো হয়েছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও তাদের সম্মান নষ্ট করার জন্য।

এই মামলায় খালাস পাওয়া অন্যান্য আসামীদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের নামে এই মামলা দায়ের করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে এ মামলা করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তাদের রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার বিচার চলাকালীন ৬৮ সাক্ষীর মধ্যে ৩৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এই মামলার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, খালেদা জিয়া ও অন্যান্য আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল এবং তাদের সম্মানহানির জন্যই এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালতের এই রায় নাইকো মামলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

reporter