ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

জুনেই আইএমএফের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

reporter

প্রকাশিত: ০৭:০৫:৫৭অপরাহ্ন , ১৩ মে ২০২৫

আপডেট: ০৭:০৫:৫৭অপরাহ্ন , ১৩ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

বিনিময় হারের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ অবশেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণের নতুন কিস্তি পেতে যাচ্ছে। আগামী জুন মাসে দশমিক বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজের আওতায় একসঙ্গে চতুর্থ পঞ্চম কিস্তি হিসেবে দশমিক বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে আগামী ১৪ মে, বুধবার। সেদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের নেতৃত্বে আইএমএফের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে, যার পরেই উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ডলার-টাকার বিনিময় হারে নমনীয়তার বিষয়ে সম্মত হওয়ার পরই এই ঋণ ছাড়ের পথ খুলে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে যে বিনিময় হার পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তার নাম ‘ক্রলিং পেগ’। এই পদ্ধতিতে বাজারের অবস্থান অনুযায়ী বিনিময় হারে কিছুটা নমনীয়তা আনা হয়। কিন্তু বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আগে মতানৈক্য ছিল, যার ফলে চতুর্থ কিস্তির ঋণ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। এবার সেই জট খুলে যাওয়ায় জুন মাসে একযোগে দুই কিস্তির অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে আইএমএফ বাংলাদেশকে দশমিক বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ প্যাকেজ অনুমোদন দেয়, যা ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাত কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। এই ঋণ প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রথম তিন কিস্তিতে ২.৩১ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে, যার সর্বশেষ কিস্তি ছাড় হয় ২০২৪ সালের জুন মাসে।

নিয়ম অনুযায়ী, চতুর্থ কিস্তির অর্থ ছাড় হওয়ার কথা ছিল ২০২۳ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু আইএমএফের আরোপিত কিছু শর্ত এবং নীতিগত অমিলের কারণে তখন এই কিস্তি স্থগিত রাখা হয়। সেই অর্থ এবার পঞ্চম কিস্তির সঙ্গে একত্রে ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঋণ ছাড় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা হলেও স্থিতিশীলতা আনবে এবং বিনিময় হারের ওপর চাপ কমাবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তবে ঋণের এই কিস্তি ছাড়ের পরও আইএমএফের বিভিন্ন নীতিগত শর্ত মানতে বাংলাদেশকে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা।

উল্লেখ্য, আইএমএফ যে শর্তে ঋণ দিয়ে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা, বিনিময় হার সংস্কার, মুদ্রানীতি পুনর্বিন্যাস এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। এসব শর্ত পূরণে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কর কাঠামো সংস্কার, ভর্তুকি হ্রাস এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নমনীয় বিনিময় হার চালু করা।

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে দেশের অর্থনীতি যখন বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তখন এই আইএমএফ ঋণের কিস্তি ছাড় অর্থনীতিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে আইএমএফের প্রস্তাবিত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

reporter