ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

জনগণের অংশগ্রহণই নির্বাচনের মূল শক্তি : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

reporter

প্রকাশিত: ০৬:১১:৩০অপরাহ্ন , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:১১:৩০অপরাহ্ন , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

নির্বাচন শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়, এটি সর্বাগ্রে নির্ভর করে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। জনগণই আসল শক্তি, আর যখন জনগণ নির্বাচনমুখী হবে তখন সেটি কেউ আটকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও দপ্তর–সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি মতৈক্য তৈরি হয় তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আইন, নীতি ও ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে সংবাদমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

নির্বাচনি প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ সব বাহিনীকে মাঠে নামানো হবে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব এসেছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ সময় তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই ভালো পর্যায়ে রয়েছে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে মাঠে প্রায় ৩০ হাজার সেনা সদস্য অবস্থান করছে, আর নির্বাচনের সময় তা এক লাখে উন্নীত করা হবে। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনীও মাঠে থাকবে, সঙ্গে থাকবে প্রশাসন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমারের সেনারা নেই; এলাকাটি পুরোপুরি আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখছে। তিনি বলেন, আরাকান আর্মি মূলত মাদকনির্ভরশীল। সেখান থেকে প্রচুর মাদক প্রবেশ করে, আর এর বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে চাল, শাকসবজি, ওষুধপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী পাচার হয়। এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে যাতে এ ধরনের আদান–প্রদান বন্ধ হয় এবং মাদক প্রবেশ ঠেকানো যায়। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাহিনী বাড়ানো হয়েছে, ফলে শিগগিরই এ সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের কারণে কোনো হুমকির মুখে নেই। তবে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। যত দ্রুত তাদের ফেরত পাঠানো যাবে, তত দ্রুত এ সংকট কেটে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের অগ্রাধিকার হলো নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করা। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না। জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির সমন্বয়ে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

reporter