ঢাকা,  রবিবার
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ , ১০:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* আইসিসিকে নতুন প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ * তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ * সাড়ে ১২ ঘণ্টার বৈঠকে জামায়াতের আলোচনার ফোকাস * বিকালে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মির্জা ফখরুল * গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় * এনসিপি নেত্রী মনিরার অবস্থান ও নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বার্তা * বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি * বিপিএল ঢাকার পর্ব অনিশ্চয়তায়; নাজমুল ইস্যুতে ক্রিকেটারদের অনড় সিদ্ধান্ত * বিচারাধীন মামলার আপিল কার্যতালিকায়; আলোচনায় বহুল বিতর্কিত রায় * ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হামলার আশঙ্কা

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

repoter

প্রকাশিত: ১১:৩৭:০৪পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:৩৭:০৪পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ছবি: সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ফার্মগেট-খামারবাড়ি এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার সকাল ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই সভায় উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা, ক্ষতি ও দীর্ঘদিনের বেদনাবিধুর স্মৃতি তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সহিংসতায় অনেকে প্রিয়জন হারিয়েছেন, আবার অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, কিন্তু ন্যায়বিচার বা উপযুক্ত সহায়তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যিনি বলেন যে এই পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও উত্থাপন করে। সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, যিনি দীর্ঘসময় পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মানসিক শক্তি ও সহনশীলতার প্রশংসা করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে পরিবারের ওপর যে গভীর আঘাত আসে, সেটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকারের প্রশ্নটি রাজনৈতিক নয়, মানবিক।

এর আগের দিন শনিবার গুম, খুন এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাদা একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বছরের পর বছর তারা অপেক্ষা করলেও তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাননি। অনেকেই অভিযোগ করেন, তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ হয়েছে, আবার কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে কথা বলতে পারেননি। এই পরিস্থিতিকে ‘অসমাপ্ত বেদনার ইতিহাস’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের লড়াই তখনই সফল হবে যখন প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গুম-খুনের সব মামলা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

পরপর দুই দিন ধরে আয়োজিত এই সভাগুলোকে বিএনপির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাস্তবতা জানার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলের নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে দমিয়ে রাখা কণ্ঠগুলোকে সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি এই মতবিনিময় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবারগুলোর বক্তব্য শোনার পর তারেক রহমান বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন দিয়ে হবে না—রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচারের কাঠামো পুনর্গঠন না করলে জনগণের আস্থা ফেরানো যাবে না। তিনি বলেন, “যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছে, যাদের পরিবারগুলো আজও শোক বহন করছে, তাদের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের না শুনে কোনো রাজনীতি টেকসই হতে পারে না।”

সভায় বক্তারা আরও বলেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না—এটি ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। সেই আন্দোলনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক সমস্যা, চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মানসিক ট্রমার বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এই পরিবারগুলোকে সহায়তা করা প্রত্যেক মানবিক রাজনৈতিক শক্তির কর্তব্য। বিএনপি নেতারা ঘোষণা দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

সভায় অংশ নেওয়া অনেক পরিবারই বলেন, এতদিন পর তাদের কথা শোনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পেয়ে তারা স্বস্তি পেয়েছেন। কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও ছিল ক্ষোভ, আবার কেউ কেউ বলছিলেন দীর্ঘদিন পরে পাওয়া স্বীকৃতি এবং সংবেদনশীলতার কথা। মতবিনিময় শেষে তারেক রহমান বলেন, “এই পরিবারগুলোর যন্ত্রণা ও সংগ্রাম ভুলে গেলে আমাদের রাজনৈতিক লড়াই অর্থহীন হয়ে যাবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থাকব।”

repoter