ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

‘একটি বিশেষ দল সম্পর্কে লিখছেন না’ – মির্জা আব্বাসের সাংবাদিকদের প্রতি অভিযোগ

reporter

প্রকাশিত: ০৯:৫১:৫৬অপরাহ্ন , ১১ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ০৯:৫১:৫৬অপরাহ্ন , ১১ মার্চ ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, গত ১৭ বছরে অবৈধভাবে যেসব ব্যবসায়ীরা টাকা কামিয়েছেন, তারা দেশ ধ্বংস করতেই সেই টাকা খরচ করছেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা শুধু বিএনপি নিয়ে নিউজ করেন। একটি বিশেষ দল সম্পর্কে লিখছেন না।’ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্টুরেন্টে বিএনপি পরিবার আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘গত বছরের ৩ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে ব্যবসায়ী সম্মেলনে কোন কোন ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন, তা গণমাধ্যম প্রকাশ করুক। এসব ব্যবসায়ীদের অনেকের নামে হত্যা মামলা থাকলেও কেন তারা গ্রেফতার হচ্ছেন না? শুধু ব্যবসায়ী নয়, সচিবালয়েও আওয়ামী লীগের দোসররা এখন অবস্থান নিয়েছে। তাদের অনেকেই এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষেই কাজ করছেন।’

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা শুধু বিএনপি নিয়ে নিউজ করেন। ওই বিশেষ দলকে কারা টাকা দেয়, কারা হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করে দেয়, সেটিও জাতির সামনে প্রকাশ করুন। পর্দার অন্তরালে অনেক কিছু ঘটছে, সেগুলো আপনারা লিখছেন না। কোন ব্যবসায়ী কোন দলকে কত টাকা দেয়, কোন দল কোন ব্যবসায়িকে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন, এগুলো আপনারা লিখছেন না।’

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যার পক্ষে ছিল যে ব্যবসায়ীরা, তাদের মধ্যে কে গ্রেফতার হলো, কে হলো না, কেন হলো না, এগুলো লিখতে হবে। গত ১৭ বছর ধরে যারা অবৈধভাবে হাজার কোটি টাকা ইনকাম করেছে, তারাই পরের ১৭ বছর এই টাকা ব্যয় করবে দেশকে ধ্বংস করতে।’

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ওদের সাবধান করুন। ওরা মনে করে টাকা হলেই সাংবাদিকদের কেনা যায়। কিন্তু টাকা হলেই সাংবাদিক কেনা যায় না। আমি আমার জীবনে এমন বহু সাংবাদিক দেখেছি, যারা টাকায় কেনা যায়নি। তবে কিছু সাংবাদিককে টাকা দিয়ে কেনা যায়, যারা জাত সাংবাদিক নন।’

বিএনপি নেতা সাংবাদিকদের অবদানের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সাংবাদিকবিহীন কোনো জাতি-রাষ্ট্র আছে বলে আমি মনে করি না। সাংবাদিক বিহীন কোনো রাষ্ট্র যদি থাকে, অবশ্যই সেটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অবশ্যই স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্লাটফর্ম থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের প্রচেষ্টা ও কার্যক্রমের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের শুধু ঘটনা নিয়েই কাজ করা নয়, তাদের কোথায় কি হতে যাচ্ছে, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। আওয়ামী লীগের দোসররা কে কোথায় অবস্থান করছেন, কার কি অবস্থা, কি করেছেন, সবগুলোই বের করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা যেন নতুন বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে নতুন কোনো ভুল না করি। ছাত্র এবং জনতার যে অভ্যুত্থান, সেটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ঠিক রেখেই আমাদের চলতে হবে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এখনো কেন সাংবাদিকতার বিকাশে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা হয়নি? সাবেক একজন তথ্যমন্ত্রী হিসেবেও আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, এ আইন কার স্বার্থে এখনো বলবৎ রয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘দলের কঠিন দুঃসময়ে সাংবাদিকরা ছিলেন আমাদের অন্যতম ভরসা। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জাতি জানতে পেরেছে। আগামীতেও সবসময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা বিএনপি পাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।’

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে ইফতার পার্টিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, মিডিয়ার সেলের আহবায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল ও সদস্য বিএনপি নেত্রী শাম্মী আক্তার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি।

reporter