ছবি: সংগৃহীত ছবি
ডিসেম্বর মাসজুড়ে পরিচালিত বিশেষ নিবন্ধন কার্যক্রমে দেশে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আসায় কর প্রশাসনে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে; ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন অনিবন্ধিত থাকা ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা, যার অংশ হিসেবে দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট ছুটির দিনসহ টানা মাঠপর্যায়ে জরিপ, সচেতনতামূলক প্রচার এবং অনলাইন সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাজ করে, ফলে মাত্র এক মাসেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়; এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে যেখানে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজারে, যা ভ্যাটের আওতা সম্প্রসারণে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; ভ্যাট থেকে আদায়কৃত রাজস্ব দেশের মোট রাজস্ব আয়ের বড় অংশ জুড়ে থাকায় এই খাতে নিবন্ধন বৃদ্ধি ভবিষ্যতে রাজস্ব প্রবৃদ্ধিকে আরও টেকসই করবে বলে আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই ভ্যাট থেকে আসে; সরকার ইতোমধ্যে ভ্যাট আইন সংশোধনের মাধ্যমে বার্ষিক টার্নওভারের সীমা কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে, যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোও কর ব্যবস্থার আওতায় আসে; পাশাপাশি অনলাইনে সহজ নিবন্ধন, ইভ্যাট সিস্টেমে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল, সংগৃহীত ভ্যাট সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক হিসাবে ফেরতের সুবিধা চালু করায় করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে; ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজবোধ্য ভ্যাট রিটার্ন প্রণয়নের উদ্যোগও কর ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করেছে, যার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি একটি দক্ষ, আধুনিক ও ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার ভিত্তি শক্ত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ অর্থনীতি গঠনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
reporter