ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

চবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রক্টরসহ বহুজন আহত, উত্তেজনা ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে

reporter

প্রকাশিত: ০৭:২৬:০৫অপরাহ্ন , ৩১ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০৭:২৬:০৫অপরাহ্ন , ৩১ আগস্ট ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আবারও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ তানভীর হায়দার আরিফসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ সময় ধাওয়া খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন।

রবিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের কারণে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এক সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোটা নিয়ে হামলা এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হলে হঠাৎ উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এসময় স্থানীয়রা হাতে লাঠি এবং ইটপাটকেল নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয়রা ইটপাটকেলের পাশাপাশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ভয় ও আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। প্রক্টর তানভীর হায়দার আরিফ ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকালে আহত হন। তার সঙ্গে আরও বহু শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের সঙ্গে নানা কারণে উত্তেজনা চলে আসছে। কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন তারা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীরা প্রায়ই উসকানিমূলক আচরণ করেন এবং তাদের কারণে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাবই সংঘর্ষের মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে কারণ উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা অতিরিক্ত মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মোতায়েন করা হলেও সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়।

সংঘর্ষের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে অথচ প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ না থাকলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশও নষ্ট হবে বলে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কয়েকজন আহত শিক্ষার্থী বলেন, স্থানীয়রা সংগঠিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ভেঙে গেছে, অনেকের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক শিক্ষক বলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল শুরুতেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা থেকে দ্রুত উত্তরণের কোনো সহজ পথ নেই। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে সংযত করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়, সাধারণ মানুষও ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলে ফিরে গেছেন এবং বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এখনো থমথমে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। অতীতেও এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে। তবে এবারকার ঘটনাটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, কারণ এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও আক্রান্ত হয়েছেন। প্রো-ভিসি অসুস্থ হয়ে পড়া এবং প্রক্টর আহত হওয়া ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এখন সবার নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অস্থিরতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

reporter