ঢাকা,  রবিবার
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ , ১০:৪০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* আইসিসিকে নতুন প্রস্তাব দিল বাংলাদেশ * তাপস-নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ * সাড়ে ১২ ঘণ্টার বৈঠকে জামায়াতের আলোচনার ফোকাস * বিকালে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মির্জা ফখরুল * গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় * এনসিপি নেত্রী মনিরার অবস্থান ও নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বার্তা * বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি * বিপিএল ঢাকার পর্ব অনিশ্চয়তায়; নাজমুল ইস্যুতে ক্রিকেটারদের অনড় সিদ্ধান্ত * বিচারাধীন মামলার আপিল কার্যতালিকায়; আলোচনায় বহুল বিতর্কিত রায় * ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হামলার আশঙ্কা

বিকালে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মির্জা ফখরুল

repoter

প্রকাশিত: ১১:৫০:২৫পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:৫০:২৫পূর্বাহ্ন, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আজ বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠেয় এ বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও আচরণবিধি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এবং বিরোধী দলের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, দলটি সম্প্রতি প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট এবং ভোটার স্লিপ সংক্রান্ত বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরে ব্যাখ্যা চাইতে প্রস্তুত হয়েছে। দলের অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট তৈরিতে অনিয়ম, পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং সংশ্লিষ্ট তালিকা প্রস্তুতে জবাবদিহির অভাবের কারণে দল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে একাধিক রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি, যা নির্বাচন কমিশনের নজর কাড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী দলের এ ধরনের সরাসরি বৈঠককে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হলেও, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন—এটি চলমান নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও অভিযোগের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক সংলাপ। বৈঠকে বিএনপি তাদের পর্যবেক্ষণ ও ক্ষোভের পাশাপাশি কিছু কাঠামোগত সুপারিশও উত্থাপন করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দলীয় সূত্র বলছে, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এটি নির্বাচনের ওপর আস্থা সংকট আরও গভীর করতে পারে। একই সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা নিয়ে দল কমিশনের ব্যাখ্যা শুনতে আগ্রহী।

এর আগের বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দেয়। তখন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা সংশোধিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আজকের বৈঠককে অনেকেই পরিস্থিতির প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের শঙ্কা প্রশমনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে কমিশনও নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ রক্ষায় আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য এলে বিরোধী দলগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থায় অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ যথাযথভাবে বিবেচনায় নিতে হবে এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ভোটার স্লিপ, পর্যবেক্ষক নিয়োগ, প্রচার, বিজ্ঞাপন এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধী দলগুলো আরো কিছু মতামত বা দাবি উত্থাপন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজকের বৈঠকে বিএনপির মহাসচিবের উপস্থিতি দলটির পক্ষ থেকে আলোচনার গুরুত্বের নির্দেশক। নির্বাচনের আগে বিরোধী দল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এ ধরনের আলোচনা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্য। তবে বৈঠকের ফলাফল কেমন হবে এবং কমিশন অভিযোগ ও সুপারিশগুলো কতটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে—তা জানতে রাজনৈতিক অঙ্গন কিছুটা অপেক্ষার মনোভাব নিয়েছে।

repoter