ছবি: ফাইল ছবি
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তিনি মাওলানা মামুনুল হক-এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করার ইঙ্গিত দিলে তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী ফলাফলকে ঘিরে ‘রেজাল্ট ডাকাতি’ হয়েছে এবং চলমান বক্তব্য ও মামলা-হুমকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
রবিবার এক বিবৃতিতে দলটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মামুনুল হক ব্যাপক জনসমর্থন পান। কিন্তু ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় অসংখ্য অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বহু বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা, ফলাফল শিটে টেম্পারিং ও ওভাররাইটিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মামুনুল হককে বিজয়ী হিসেবে প্রচারের পর হঠাৎ সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।
দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি ও ফল স্থগিতের আবেদন সত্ত্বেও দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জনগণের স্পষ্ট রায়কে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলে তারা দাবি করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, হয়রানি ও চরিত্রহননের চেষ্টা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
অন্যদিকে, ববি হাজ্জাজ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় আহত কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে দেখতে গিয়ে মন্তব্য করেন, কেন্দ্র দখল ও হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে খেলাফত মজলিস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল ঘিরে বিরোধী ও ক্ষমতাসীন শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ফলাফল ব্যবস্থাপনা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সবশেষে, খেলাফত মজলিস সতর্ক করে বলেছে, ফলাফল বিকৃতি ও মিথ্যাচার অব্যাহত থাকলে তা সরকারের জন্য রাজনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু একটি আসনের ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে।
reporter



