ছবি: ফাইল ছবি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরের উপকণ্ঠ নারায়ণপুর থানার পশ্চিম বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়ার একটি চারতলা ভবনের প্রথম তলায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মুসলিম অধ্যুষিত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার গলিতে অবস্থিত ওই ফ্ল্যাটে অবস্থান করলেও তিনি দৃশ্যত এলাকাবাসীর কাছে নিজেকে কখনো পুলিশ পরিচয়ে, কখনো অন্য পরিচয়ে পরিচিত করতেন বলে স্থানীয়দের দাবি। দলীয় সহযোদ্ধা ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দায় স্বীকার না করলেও তাঁদের বক্তব্যে বোঝা যায় যে বাপ্পী সেখানে নিয়মিত বসবাস করছিলেন এবং ঘটনা প্রকাশ্যে আসার আগ থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরপাকড় এড়াতে আত্মগোপন করেছিলেন। একই সময়ে হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬৫ লাখ টাকারও বেশি অর্থ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা সন্ত্রাস, হত্যাকাণ্ড ও মানি লন্ডারিং সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক লেনদেনের প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে উদ্ভূত। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে হত্যাকাণ্ডের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রবাহ ছিল, যা কেবলমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ নয় বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ সংগঠন পরিচালনার ইঙ্গিত বহন করছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এসব অর্থ বাজেয়াপ্ত বা স্থগিত না করলে অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই অর্থ বেহাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, আর তাই অবরুদ্ধের পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল। ঘটনাটিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে—বিশেষত বাপ্পীর ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়া সংক্রান্ত গুঞ্জন ঘিরে—যদিও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। হাদি হত্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও তরুণ সংগঠনগুলোতে চাপানউতোর এবং দলে–দলে অবস্থানগত সংকট দেখা দিয়েছে, আর তদন্ত অগ্রগতি ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান ও দায়বদ্ধতা।
repoter

