ঢাকা,  শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৩৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ঈদ যাত্রায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী * প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে * সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায় * ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা

আবারও ছায়াহীন পবিত্র কাবা, মক্কার আকাশে সূর্য সরাসরি শীর্ষবিন্দুতে

reporter

প্রকাশিত: ০৯:৪৪:৩৪অপরাহ্ন , ১৫ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ০৯:৪৪:৩৪অপরাহ্ন , ১৫ জুলাই ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘সোলার জেনিথ’ ঘটনার মধ্য দিয়ে কিবলা নির্ধারণের সুযোগ সৃষ্টি

পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফ আবারও ছায়াশূন্য অবস্থায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সূর্য সরাসরি কাবা শরিফের ওপর অবস্থান করলে এই বিরল দৃশ্য সৃষ্টি হয়। এ সময় সূর্য কাবার ঠিক মাথার ওপরে থাকায় কাবা শরিফ এবং তার আশপাশের কোনো বস্তুর ছায়া আর দৃশ্যমান থাকেনি।

জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবারের এই মুহূর্তে সূর্য এবং কাবা একই সরলরেখায় অবস্থান করেছে। এর ফলে মক্কার আকাশে ছায়া সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই সময় পৃথিবীর যেকোনো স্থানে অবস্থানকারী ব্যক্তি সূর্যের দিকে মুখ করলে সেই দিকই কিবলার সঠিক দিক হিসেবে ধরা হবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাটি ঘটে যখন সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মক্কার অক্ষাংশ অতিক্রম করে। মক্কার ভৌগোলিক অবস্থান প্রায় ২১ দশমিক ৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে। সূর্যের এই অবস্থানকে বিজ্ঞানীরা ‘সোলার জেনিথ’ নামে অভিহিত করেন।

‘সোলার জেনিথ’ মূলত বছরে দুবার দেখা দেয়। একবার মে মাসের শেষ দিকে এবং আবার জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে। এ সময় সূর্য পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চলের শীর্ষবিন্দুতে এসে দাঁড়ায়। সেই নির্দিষ্ট মুহূর্তে যে স্থানের ওপর সূর্য অবস্থান করে, সেখানে কোনো ছায়া থাকে না।

মুসলিম বিশ্বে এই ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এই সময়টিতে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকে সহজেই কিবলার সঠিক দিক নির্ধারণ করা যায়। বিশেষ করে এমন অঞ্চলে, যেখানে কিবলা নির্ধারণ নিয়ে বিভ্রান্তি থাকতে পারে, তাদের জন্য এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ পদ্ধতি হয়ে ওঠে।

জ্যোতির্বিদ্যার ইতিহাসে বহু আগে থেকেই এই ধরনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন বিষয়টি বিশ্বজুড়ে সহজে জানা এবং নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

মক্কায় অবস্থিত কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা নামাজের সময় কিবলা নির্ধারণ করেন। ফলে এই ধরনের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা কেবল গবেষণার বিষয় নয়, এটি ধর্মীয় আচার-আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ বছরের জুলাইয়ের এই সোলার জেনিথের খবর আগাম জানিয়ে দিয়েছিল জেদ্দা জ্যোতির্বিদ্যা সমিতি। তারা জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের আগে যে কেউ নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি খাড়া বস্তু স্থাপন করে ছায়া পরীক্ষা করলে সহজেই বুঝতে পারবে সূর্য কিবলার দিকে অবস্থান করছে কিনা।

মঙ্গলবার এই মুহূর্তে, যারা সরাসরি মক্কায় উপস্থিত ছিলেন, তারা কাবা শরিফের আশপাশে দাঁড়িয়ে কোনো ছায়া দেখতে পাননি। অনেকে সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন। অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছরও এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তবে প্রতি বছর দুইবার এই মুহূর্ত আসে বলে মুসলিমরা চাইলে কিবলা নির্ধারণের জন্য এই প্রাকৃতিক নির্দেশনার সহায়তা নিতে পারেন।

মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানীরাও এই ঘটনাকে বিশেষ নজরে রাখেন। কারণ, এটি পৃথিবীর কক্ষপথ এবং সূর্যের অবস্থান পর্যবেক্ষণের একটি প্রকৃত উদাহরণ হিসেবেও কাজ করে।

এভাবেই পবিত্র কাবা শরিফ মঙ্গলবার আবারও ছায়াহীন হয়ে এক বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হলো, যা ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক— দুই ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

reporter