ছবি: ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে একের পর এক বড় ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সিদ্ধান্তের বেশিরভাগই এমন সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন সরকারের হাতে কার্যকর সময় প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে এর দায়ভার ও বাস্তবায়নের চাপ গিয়ে পড়বে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-কমিশনের সুপারিশ গ্রহণ, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের জন্য বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সমরাস্ত্র জোন স্থাপনের ঘোষণা, র্যাবের জন্য বিপুলসংখ্যক গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত, দ্রুতগতিতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, গণমাধ্যম আইন ও সম্প্রচার কমিশন গঠনের তড়িঘড়ি প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে সরকারের শেষ সময়ের কর্মকাণ্ডকে অনেকেই ‘শেষ মুহূর্তের গোঁজামিল’ হিসেবে দেখছেন। এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ভারসাম্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় জড়িয়ে থাকায় পরবর্তী সরকারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি ব্যয় বিপুলভাবে বেড়ে যাবে, যা ভবিষ্যৎ বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করাকে আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে জটিল বলেও অভিহিত করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। পাশাপাশি বড় অঙ্কের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক চুক্তি সইয়ের তৎপরতা এবং প্রশাসনিক নিয়োগে দ্রুততার কারণে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে, ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত দেশ ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি, বরং অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
reporter

