ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণ আনতে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব

reporter

প্রকাশিত: ০৮:২৫:৫৬অপরাহ্ন , ০৮ মে ২০২৫

আপডেট: ০৮:২৫:৫৬অপরাহ্ন , ০৮ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র ক্ষমতায় কোনও দণ্ডিত অপরাধীকে ক্ষমা প্রদর্শনের বিধান নিয়ন্ত্রণে আনতে সুপারিশ করেছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। এ লক্ষ্যে একটি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যার সুপারিশের ভিত্তিতেই ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, কমিশনের প্রধান ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমানের নেতৃত্বে বিচার বিভাগ সংস্কার সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয় প্রস্তাবনাগুলোর সারসংক্ষেপ। এতে মোট ২৮টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। তার মধ্যে ছয় নম্বর প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালত কর্তৃক চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত কোনও ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বা নির্বাহী বিভাগ কর্তৃক ক্ষমা প্রদর্শনের একক এখতিয়ারকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট মামলার ন্যায্যতা, দণ্ডিত ব্যক্তির আচরণ, সামাজিক প্রভাব এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে ক্ষমা প্রদর্শনের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান। রাষ্ট্রপতি কেবল সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। তবে অতীতে এই ক্ষমা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা সময় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা প্রভাবিত সিদ্ধান্তের অভিযোগে ক্ষমাপ্রদান প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

২০১১ সালে লক্ষ্মীপুর জেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এএইচএম বিপ্লবকে ক্ষমা করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। বিপ্লব ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবু তাহেরের পুত্র। রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমা প্রদর্শন সেই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমার ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নাগরিক সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা।

এ ধরনের বিতর্ক ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ করতেই কমিশন ক্ষমা প্রদর্শনের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের প্রক্রিয়া গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রতিবেদনটি বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে বলে জানানো হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। কমিশনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও গণতান্ত্রিক ও নিরপেক্ষ হবে।

প্রস্তাবিত বোর্ড কীভাবে গঠিত হবে, সদস্য কারা হবেন এবং কীভাবে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন— সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিচারপতি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে এই বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতামত ও আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

এই সংস্কার প্রস্তাবনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

ক্ষমার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির প্রতিষ্ঠানকে আরও গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল কাঠামোয় পরিচালিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

reporter