ছবি: ফাইল ছবি
রাজশাহীর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ জননেতা মিজানুর রহমান মিনু এবারও ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কারণে তিনি এলাকার ভোটারদের কাছে সুপরিচিত। স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নগর সেবার মানোন্নয়নকে সামনে রেখে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সমর্থকদের মতে, অতীতের কাজ ও জনসেবামূলক উদ্যোগই তাকে ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রেখেছে, আর মিনু নিজেও জনগণের আস্থা অর্জন করে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও জননেতা মিজানুর রহমান মিনু মানবিক এক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা আজও আলোচনায় আসে তার সহমর্মিতা ও সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য। এক সময় সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও ঘৃণিত পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ১৯২ জন নারীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন তিনি। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়ে পতিতাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়া এসব নারী দীর্ঘদিন ধরে সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তাদের জন্য ছিল না কোনো সম্মান, নিরাপত্তা বা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। এমন এক বাস্তবতায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন মিনু। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ কখনো জন্মগতভাবে অপরাধী বা কলঙ্কিত নয়, বরং পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় ভুল পথে যেতে বাধ্য হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সমাজের অবহেলিত এই নারীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ধাপে ধাপে ১৯২ জন নারীকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন তিনি। এই চাকরিগুলো তাদের জন্য শুধু আয়ের উৎসই ছিল না, বরং ছিল সম্মানজনক জীবনের নতুন দরজা। চাকরি পাওয়ার পর এসব নারী ধীরে ধীরে সমাজে নিজেদের পরিচয় বদলাতে শুরু করেন। তাদের অনেকেই নতুনভাবে সংসার গড়েন, সন্তানদের লেখাপড়া করান এবং স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে জীবনযাপন শুরু করেন। মিনুর এই উদ্যোগের ফলে শুধু ১৯২ জন নারীই নয়, তাদের পরিবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। পুনর্বাসিত নারীদের অনেকে জানান, এক সময় তারা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হতেন, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ছিল না। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর তারা নতুন আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন এবং সমাজে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় নানা ধরনের সামাজিক চাপ, সমালোচনা ও বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে জানা যায়। অনেকেই এমন সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেননি, কিন্তু মিনু তার মানবিক অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসেননি। তিনি মনে করতেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিতে হয়। তার এই উদ্যোগকে অনেকেই বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটি অনন্য ও উদাহরণযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু পুনর্বাসন নয়, বরং সামাজিক পুনর্গঠনের একটি শক্তিশালী উদাহরণ। কারণ, একজন মানুষের জীবন বদলে গেলে তার পরিবার, সন্তান এবং পরবর্তী প্রজন্মও ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সমাজে অপরাধ, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, সাহসী নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে নেওয়া এই পদক্ষেপ আজও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজশাহীর মানুষের কাছে এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা দেখিয়ে দেয় সঠিক নেতৃত্ব থাকলে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষের জীবনেও পরিবর্তনের আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
reporter



