ছবি: ফাইল ছবি
মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ নতুন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক নথি, ছবি ও ভিডিও জনসম্মুখে আনে, যা নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের কয়েক সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়। এসব নথিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ব্যবসা ও অভিজাত মহলের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসায় বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। নথিগুলোতে এপস্টেইনের কারাবাসকালীন তথ্য, মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন, কারাগারে তার মৃত্যুসংক্রান্ত নথি, এবং তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তসংক্রান্ত দলিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের মামলার নথি নতুন করে আলোচনায় এসেছে; তাকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচারে সহায়তার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রকাশিত দলিলপত্রে এপস্টেইনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগের ইমেইল ও নথি থাকলেও, সংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এসব দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম একাধিকবার আলোচনায় এলেও তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ভারত ও মালয়েশিয়ার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দিয়ে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো সম্পর্ক থাকার দাবি নাকচ করেছে এবং প্রকাশিত ইমেইলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যুক্তরাজ্যে এপস্টেইনসংক্রান্ত নথিতে নাম ওঠায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপ তৈরি হয়েছে; তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক পদ ও সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নথিগুলোর একটি অংশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল কিছু উপহার ও যোগাযোগের তথ্যও উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই নথি প্রকাশ কেবল ব্যক্তিগত অপরাধের তদন্ত নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব এবং জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এপস্টেইন কাণ্ডের পূর্ণ সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে দাবি উঠেছে—এ ধরনের অপরাধ যেন ভবিষ্যতে প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে চাপা না পড়ে। সব মিলিয়ে, এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজে জবাবদিহি, নৈতিকতা এবং আইনের শাসন নিয়ে নতুন করে আলোচনা জোরদার করেছে।
reporter


