ঢাকা,  শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:২৯ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ঈদ যাত্রায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী * প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে * সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায় * ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা

যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ কমানোর চিন্তায় সরকার

reporter

প্রকাশিত: ০৪:০৩:৪৩অপরাহ্ন , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৪:০৩:৪৩অপরাহ্ন , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য সাজা ভোগের সময়সীমা কমানোর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বয়সজনিত জটিলতা ও নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত প্রবীণ বন্দিদের মানবিক দিক বিবেচনায় এই উদ্যোগের কথা ভাবছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে নারীদের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন সাজাকে সর্বোচ্চ ২০ বছর করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

রবিবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে বহুমুখী সমস্যা রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সীমিত বাজেট ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি। প্রবীণ বন্দিদের জন্য ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। তাই যেসব বন্দির বয়স বেশি, দীর্ঘদিন সাজা ভোগ করছেন এবং গুরুতর অসুস্থ, তাদের ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ কমিয়ে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে মুক্তি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজাকে ৩০ বছর ধরে বিবেচনা করা হয়। তবে নতুন প্রস্তাবনায় এই সময়সীমা হ্রাস করে পুনর্নির্ধারণ করা হবে। নারীদের ক্ষেত্রে মেয়াদ সর্বোচ্চ ২০ বছর নির্ধারণ করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। পুরুষদের জন্য সময়সীমা কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বন্দির বয়স, অপরাধের ধরন এবং পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সম্ভাবনা সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, কারা ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবি। শুধু অবকাঠামো নয়, বন্দিদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বাজেট সীমিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই সাজা ভোগরত প্রবীণ বন্দিদের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত সমাধান খুঁজে বের করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লুট হওয়া অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র প্রতিদিনই উদ্ধার করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সব ধরনের প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের কারা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন যাবৎ যেসব প্রবীণ ও অসুস্থ বন্দি কারাগারে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তারা উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে কারাগারের ভিড় ও স্বাস্থ্যসেবার চাপও অনেকটা কমবে।

reporter