
ছবি: ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তরা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা বসে নেই, তারা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি প্রদান ও পদায়ন করা হবে।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ঝিনাইদহ ড্রিমভ্যালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় নেতাকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকার ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব হলো সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, জনগণ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য জনগণ উদগ্রীব হয়ে আছে। কিন্তু এই যাত্রা সহজ হবে না। বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন স্তরে নিয়োগ প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের ব্যাংক খাত লুটপাটের শিকার হয়েছে, অনেক অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ব্যাংকিং খাতকে সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতির ভিতকে শক্তিশালী করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, পলাতক স্বৈরাচার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি করেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। বিএনপি এই সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে দেবে এবং দেশীয় পণ্যের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা চালু করবে, যাতে সাধারণ জনগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য পায়।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হবে। গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবারকে দলীয় ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগিতা করা হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি দেশের মানুষের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। গত ১৫ বছরে জনগণ অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। পুরো জাতি একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশায় আছে। বিএনপির সকল নেতাকর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে হবে।
কর্মশালার আগে সকাল ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির উদ্যোগে ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। কর্মশালার সমাপনী বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
কর্মশালায় জেলা বিএনপি, উপজেলা, থানা, পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বক্তব্য প্রদানের আগে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে তাদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।
repoter