ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশ

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৫৮:২৯অপরাহ্ন , ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:৫৮:২৯অপরাহ্ন , ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

- ফাইল ছবি

ছবি: - ফাইল ছবি

অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, বদলি, শৃঙ্খলাবিধি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের অধীন থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের ওপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেন। রিটে ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। একইসঙ্গে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা হয়।

রিটকারীদের যুক্তি ছিল, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত ছিল। কিন্তু ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তা প্রযুক্ত হবে’—এই বাক্যাংশ সংযোজন করা হয়, যা কার্যত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সীমিত করে।

তবে আপিল বিভাগ ইতোমধ্যেই পঞ্চম সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতির হাতে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থেকে যায়। এ অবস্থায় নতুন রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রায় দিয়ে ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন এবং ১৯৭২ সালের মূল অবস্থায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়ের ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুদৃঢ় হবে। দীর্ঘদিন ধরে আইনজীবী মহল থেকে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। হাইকোর্টের এ রায় সেই পথ সুগম করল বলে তাদের মত।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে। এই সচিবালয় গঠনের পর বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও কার্যনির্বাহী দায়িত্ব আর আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে না। ফলে নির্বাহী প্রভাবমুক্তভাবে বিচার বিভাগ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হতে পারবে।

রায়ে আরও বলা হয়, অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব বহু বছর ধরে বিদ্যমান ছিল, তা অবসান হবে। বিচার বিভাগ কার্যত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং রাষ্ট্রপতির পরামর্শ বা অনুমোদনের শর্ত বাতিল হয়ে যাবে।

আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায় বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার পথে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে অধস্তন আদালতের বিচারকরা বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অধীন থাকলে তাদের ওপর প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাব কমে আসবে। একইসঙ্গে বিচার বিভাগের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে।

এদিকে রায়ের পর আদালত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন করবে। সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যকার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে এবং জনগণ আরও কার্যকর বিচারসেবা পাবে।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চের এ রায়কে দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবিধানের মূল চেতনা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় এই রায় নতুন দিক নির্দেশনা দেবে বলে আইনি মহলের অভিমত।

reporter