ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

reporter

প্রকাশিত: ০১:০৪:৩৮অপরাহ্ন , ২৮ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০১:০৪:৩৮অপরাহ্ন , ২৮ নভেম্বর ২০২৪

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, বুধবার: দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ছাত্র-জনতা এবং হিন্দু-মুসলিমসহ সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।

আজ ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান উপদেষ্টা এই বার্তা দেন। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যের বার্তা

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকেও জাতীয় ঐক্যের কথা তুলে ধরা হয় বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের সঙ্গে বিএনপিও তাদের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

বিএনপির প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাউদ্দিন আহমেদ।

চট্টগ্রামের ঘটনার প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী সংঘর্ষের বিষয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ভূমিকা পালন করছে।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ইতোমধ্যে ৩৩ জনকে আটক করেছে বলে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেন। এর মধ্যে সাইফুল ইসলাম হত্যার ভিডিও বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ এবং হামলার ঘটনায় আরও ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ৬ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জনগণের প্রতি ধৈর্যের আহ্বান

দেশবাসীর প্রতি শান্তি ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধান সম্ভব। বিভেদের রাজনীতি পরিহার করে আমরা একত্রে শান্তি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারি।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অঙ্গীকার

চট্টগ্রামের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, “সরকার চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।”

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দও জাতীয় ঐক্য ও শান্তি রক্ষায় তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেন, “জাতীয় সংকট নিরসনে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই এবং জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।”

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের দেশপ্রেম ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে। একমাত্র শান্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা একটি সুন্দর ও উন্নত ভবিষ্যত নির্মাণ করতে পারি।”

সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক নেতাদের ইতিবাচক মনোভাব দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শিগগিরই প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

reporter