ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ৯.৪৫ একর জমি জব্দ, ৩৪ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

reporter

প্রকাশিত: ১০:৪৫:২১অপরাহ্ন , ১৩ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ১০:৪৫:২১অপরাহ্ন , ১৩ এপ্রিল ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর নামে ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

আদেশ অনুযায়ী, তাজুল ইসলামের নামে ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে থাকা মোট ৯ দশমিক ৪৫ একর জমি, কুমিল্লায় অবস্থিত দুটি বাণিজ্যিক স্পেস, একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ও তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৩৪টি ব্যাংক হিসাবের ২০ কোটি ৫৬ লাখ এক হাজার ২৩৭ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৬টি কোম্পানিতে থাকা ৫ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার ২৩০ টাকার শেয়ার এবং তাঁর নামে থাকা তিনটি গাড়ি, যার বাজারমূল্য ২ কোটি ৬০ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪১ টাকা—এই সব মিলে মোট ২৮ কোটি ৩৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ এই আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, তাজুল ইসলাম অবৈধভাবে ৭ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ৯৩৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। পাশাপাশি তিনি ও তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ৪৩৯ টাকা জমা এবং ৬৬ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৮ টাকা উত্তোলন করেছেন। সব মিলিয়ে ১৩৯ কোটি ৭৪ লাখ ৯৮ হাজার ১১৭ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া আবেদনে আরও বলা হয়, এসব সম্পদ তিনি অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টায় রয়েছেন। তাই তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ এবং জমি ও সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

একই দিনে দুর্নীতির আরেকটি মামলায় সাবেক উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীমসহ ১৯ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন একই আদালত। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা আত্মসাতের অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

দুদকের সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। সুদসহ এই টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮৩ কোটি ১৩ লাখ ৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।

আসামিদের বিদেশ পালানোর আশঙ্কার ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—রন হক শিকদার, রিক হক শিকদার, আলম আহমেদ, হরিদাস বর্মন, আরিফ মুহাম্মদ শহীদুল হক, এ এস এম বুলবুল, এম এ ওয়াদুদ, চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, আলহাজ্ব খলিলুর রহমান, জাকারিয়া তাহের, মাবরুল হোসেন, নাহিদ সারওয়ার, মোস্তফা মঈন সারওয়ার, রুমি ইমরোজ রশিদ, সৈয়দ শাহ আব্দুল বারি, মনোয়ারা সিকদার ও নাইমুজ্জামান ভূইয়া।

এই সব আদেশ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও তদন্তের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান থাকবে বলেও জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।

reporter