ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

রাবিতে পোষ্য কোটা ইস্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের শাটডাউনের ঘোষণা

reporter

প্রকাশিত: ০৫:২৪:১৮অপরাহ্ন , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৫:২৪:১৮অপরাহ্ন , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা ইস্যুতে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় উপাচার্যের বাসভবনে শুরু হওয়া সভায় পোষ্য কোটা পুনর্বহাল ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি একাডেমিক সভায় পোষ্য কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেন। এর প্রেক্ষিতে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাবেক সমন্বয়ক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতা-মণ্ডলী প্রতিবাদ শুরু করেন। তারা রাত ১১টা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে রাতভর বিক্ষোভে অংশ নেন। পরের দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর শিক্ষার্থীরা পুনরায় বিক্ষোভ শুরু করেন। কিছু শিক্ষার্থী পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন। তারা উপ-উপাচার্যের গাড়ি আটকান এবং সেখানে টাকা ছুঁড়ে মারেন। এর পাশাপাশি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খানের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি তার বাসভবনে প্রবেশ করতে না পারায় প্রক্টর মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা জুবেরি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে শিক্ষার্থীরা তাদের বাধা দেন।

ঘটনাস্থলে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ঘটে। এই ধস্তাধস্তিতে শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। এছাড়া উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খান, রেজিস্টার ইফতেখার আলম মাসউদ, প্রক্টর মাহবুবুর রহমান এবং রাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এনামুল হকসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তারা জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের এই অশান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যক্রম বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে। শাটডাউন কর্মসূচি কার্যকর থাকাকালীন সময়ে সকল প্রশাসনিক অফিস, ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ পোষ্য কোটা পুনর্বহাল। শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, কোটা সংস্কার না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার সমতা নষ্ট হবে। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, পোষ্য কোটা পুনর্বহাল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আজকের সিন্ডিকেট সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের এই তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে। শিক্ষক-কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের সহিংস প্রতিক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও কোটা ইস্যু নিয়ে সমাধান প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারবে।

reporter