ছবি: ফাইল ছবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন অস্থিরতা চরমে, ঠিক তখনই মার্কিন সিনেটরের মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে দেশটির জনগণকে বাঁচাতে প্রয়োজনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করতেও পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান বিক্ষোভের জেরে ইরানে রক্তপাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত, আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর হওয়ার বিষয়টি এই মন্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ইরানের অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ দিনদিন রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়, যার সুযোগে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সাম্য ভেঙে পড়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরানের রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু দেশটির অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে, যা তেলের বাজার থেকে শুরু করে ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন রাজনীতিতেও এই ইস্যুটি ক্রমেই নির্বাচনী গণনা ও কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে, কারণ ট্রাম্প উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। এরই মধ্যে মার্কিন সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে ইরানি প্রশাসন যদি বিক্ষোভকারীদের দমনে সহিংসতা চালিয়ে যায়, তবে তা আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে। বিক্ষুব্ধ জনতার উপর হামলার ফলে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোও সতর্কবার্তা দিচ্ছে, আর বিশ্বশক্তিগুলো নিজেদের ভবিষ্যৎ অবস্থান ঠিক করতে ব্যস্ত। অত্যন্ত জটিল এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সঙ্গেও একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থান এবং ‘প্রয়োজনে হত্যা’ ধরনের বিবৃতি কূটনৈতিক সংঘাতকে আরো ঘনীভূর্ত করার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাকেও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এই সংকট শুধু ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বশক্তির কৌশলগত হিসেবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
repoter

