ছবি: ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি চুক্তি দুই দেশের টানাপোড়েনের মাঝেও একটি যুগান্তকারী সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও বৈশ্বিক বাজারের চাপের মধ্যেও ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদ নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পরই বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং এই চুক্তিকে অনেকে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের সম্ভাব্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার লাখো ব্যারেল তেল ট্যাংকারে আটকে ছিল, ফলে দেশটির উৎপাদন কমিয়ে আনতে বাধ্য হয় সরকার। ঠিক এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতার ফলে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল নিষেধাজ্ঞা-আবদ্ধ তেল বাজারমূল্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে, যার পুরো অর্থ দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তেল সরাসরি ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে যাবে এবং এর বাস্তবায়ন তদারকি করবেন মার্কিন জ্বালানি সচিব। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট রিফাইনারিগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বস্তি দেবে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কমিয়ে বাজারে স্থিতি ফিরিয়ে আনবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি, বিশেষ করে শেভরন, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে আরও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে, যা ভেনেজুয়েলার জন্য একদিকে অর্থনৈতিক ত্রাণ হলেও অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল আলোচনার দ্বার খুলছে। মাদুরোকে আটক ও ক্ষমতার সংকটের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি অনেকেই মার্কিন ভূরাজনীতির কৌশলগত অগ্রযাত্রার অংশ বলে মনে করেন। তবে সব মিলিয়ে রপ্তানির নতুন পথ ভেনেজুয়েলার স্থবির অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এনে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের জ্বালানি খাত আবারও প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
repoter

