ছবি: ফাইল ছবি
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলার চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন পর্যন্ত তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে লিটন দাসের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই শুধু একটি ক্রিকেটীয় ইস্যু হিসেবে নয় বরং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননাকর আচরণ হিসেবেও দেখছেন, মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পেছনে ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকি এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিষয়টি সামনে আসার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যার ফলে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে যাওয়া কতটা নিরাপদ হবে তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছে বলে আলোচনা চলছে, পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্তরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জোরালো হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিকেটপ্রেমীরা মুস্তাফিজের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার ঘোষণাও এসেছে, সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন যে বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার এবং দেশের মর্যাদাকে কোনোভাবেই অবমাননা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না, নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে আপস না করার বার্তা দিয়ে তারা মনে করছেন জাতীয়তার কারণে কোনো খেলোয়াড়কে টার্গেট করা খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী, একই সঙ্গে দেশের ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক তারকারাও এই ঘটনাকে অসহিষ্ণুতা ও ঘৃণার রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, সব মিলিয়ে মুস্তাফিজ ইস্যু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমা ছাড়িয়ে জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে পুরো জাতিই এক কণ্ঠে নিজেদের ক্রিকেটার ও দেশের সম্মানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
repoter

