ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কড়া বার্তা: বন্ধ সব আমদানি, আইএমএফ ঋণ পর্যালোচনার তদবির

reporter

প্রকাশিত: ০২:৪১:০২অপরাহ্ন , ০৩ মে ২০২৫

আপডেট: ০২:৪১:০২অপরাহ্ন , ০৩ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নতুন করে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এবার নয়াদিল্লি সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে, পাকিস্তান থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং জননীতির স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য ভারত আমদানি করতে পারবে না। এমনকি পাকিস্তান থেকে কোনো জাহাজ ভারতের কোনো বন্দরে ভিড়তেও পারবে না বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে উৎপাদিত বা সেখান থেকে রপ্তানিকৃত যেকোনো পণ্য, তা সরাসরি হোক কিংবা তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে, আমদানি বা ট্রানজিট হিসেবে ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোনো ব্যতিক্রম করতে চাইলে তার জন্য ভারত সরকারের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একমাত্র স্থল বাণিজ্যপথ ছিল পাঞ্জাবের ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত। পেহেলগামের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর ওই পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপরও পাকিস্তান থেকে পরোক্ষ আমদানি অব্যাহত ছিল, যা মূলত ওষুধ, ফলমূল এবং তৈলবীজ জাতীয় পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই পাকিস্তান থেকে আমদানি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছিল। ভারতের পক্ষ থেকে তখন পাকিস্তানি পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যার ফলে পাকিস্তান থেকে আমদানি প্রায় বন্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের মোট আমদানির ০.০০০১ শতাংশেরও কম ছিল পাকিস্তান থেকে আগত পণ্য।

এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের নেওয়া সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা কার্যত ইসলামাবাদকে বাণিজ্যিকভাবে একঘরে করার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে শুধু বাণিজ্য নয়, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সহায়তাও বাধাগ্রস্ত করতে সক্রিয় হয়েছে নয়াদিল্লি।

শুক্রবার (২ মে) ভারতের একটি সরকারি সূত্র আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, নয়াদিল্লি এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছে পাকিস্তানকে দেওয়া ঋণ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে। এই তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে পাকিস্তান আইএমএফ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা প্রোগ্রাম পেয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ঋণও অনুমোদিত হয় পাকিস্তানের জন্য। এই ঋণগুলো পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদের ভাষ্য, এই ঋণ না পেলে অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতো।

কিন্তু ভারত এই ঋণের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইএমএফের কাছে অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লি চায়, পাকিস্তান যেন এমন বিদেশি সহায়তা সহজে না পায়। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে ভারতীয় সরকারি সূত্র জানায়, পাকিস্তানে দেওয়া ঋণ নিয়ে পর্যালোচনা করা উচিত বলে ভারত মনে করে। যদিও তারা বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে সূত্র বলছে—এই তৎপরতা মূলত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করতেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ ভারতের কৌশলগত দিক থেকেই নেওয়া হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অবস্থান আরও জোরালো করা হচ্ছে। কাশ্মীর উপত্যকায় সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন অনেকে।

তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটি অতীতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক ও বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেছে।

বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত তার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে যেকোনো কঠোর অবস্থানে যেতে প্রস্তুত বলেই এই নতুন পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইএমএফসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার অবস্থান কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

reporter