ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

নির্বাচন দেশের সব সংকট দূর করবে: মির্জা ফখরুল

reporter

প্রকাশিত: ১০:৫২:২৯পূর্বাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ১০:৫২:২৯পূর্বাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় হলো দ্রুত নির্বাচন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। কারণ, নির্বাচনের মাধ্যমেই সব সংকট দূর করা সম্ভব। তবে এই নির্বাচন হতে হবে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য।”

শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই, রাজনৈতিক অবস্থাও দুর্বল। আমরা শুধু নির্বাচন চাই না, সংস্কারও চাই। যারা মনে করেন আমরা কেবল দ্রুত নির্বাচনের জন্য তড়িঘড়ি করছি, তারা ভুল বুঝছেন। আমরা বলছি, নির্বাচন দ্রুত হওয়া প্রয়োজন, কারণ নির্বাচন ছাড়া সংকট আরও বাড়বে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চলছে। “আমাদের ঐক্য দুর্বল করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে আমি নিশ্চিত, এ চেষ্টা সফল হবে না। আমরা সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “বৈষম্য দূর করতে তরুণদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি। বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইলেও আমরা তা হতে দেব না। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হঠকারী পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত আমাদের স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিতে পারে।”

বিএনপি মহাসচিব উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসতে হবে। ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। এ সময়ে ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, ৭০০ জন গুম হয়েছেন, এবং ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবুও আমরা থেমে থাকিনি।”

জাতীয় সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের পর আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই। সবাই মিলে কাজ করে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। অন্য দলের নেতারাও এ বিষয়ে মতামত দেবেন এবং সমাধানের অংশ হবেন।”

বিএনপির সংস্কারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা বহু আগে থেকেই সংস্কারের কথা বলে আসছি। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—সংস্কার এবং নির্বাচন দুটোই জরুরি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন জরুরি, কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার ও সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সৃষ্ট সংকটগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি, তবে একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। পাঁচ মাস পরেও কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন আমাদের অর্জন কী। আমি বলছি, আমরা আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে কথা বলতে পারছি, এটাই একটি বড় অর্জন।”

বক্তব্যের শেষে মির্জা ফখরুল তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান, “তরুণদের সহযোগিতায় বৈষম্য দূর করা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে এসে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থেকে আমরা দেশের সংকট নিরসনে কাজ করব।”

reporter