ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

মানুষ নিরুপায় হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যায়: আসিফ নজরুল

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৫৮:৩৬অপরাহ্ন , ১৬ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ০৬:৫৮:৩৬অপরাহ্ন , ১৬ আগস্ট ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশে আইন উপদেষ্টার সতর্কবার্তা—ন্যায্য সেবা নিশ্চিত না হলে রোগী হারাতে হবে বিদেশে

ঢাকা: দেশের চিকিৎসা খাতের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ বিরক্ত ও নিরুপায় হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে, অথচ সেই বাজারের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশের হাতে।

শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, “মানুষ কেন বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবে? এমনকি যারা কখনো ঢাকায় আসেনি, তারাও বিরক্ত হয়ে ভারত বা ব্যাংককে চলে যায়। অথচ এখানে যদি সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদেশ যাওয়ার কোনো কারণ নেই। এতে আপনাদের লাভ হবে, দেশেরও লাভ হবে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক চিকিৎসক অযথা রোগীদের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার বোঝা চাপিয়ে দেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার বাসার এক হেল্পিং হ্যান্ড ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ১৪টি টেস্টের তালিকা পান। আর্থিক অসুবিধার কারণে ছেলেটি ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামে ফিরে যায় এবং সেখানে কোনো টেস্ট ছাড়াই সুস্থ হয়ে ওঠে। “এই ধরনের অত্যাচার রোগীদের হতাশ করে তোলে,” মন্তব্য করেন তিনি।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ নতুন নয়। “কেন রোগীদের নির্দিষ্ট ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়? পৃথিবীর কোনো দেশে প্রাইভেট ক্লিনিকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকে না। তাহলে আপনারা কেন ওষুধ কোম্পানির দালাল হবেন?”—প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রেজাল্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “অনেক ভালো জায়গায় নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায়, আবার অনেক জায়গায় ভুয়া রেজাল্ট দেওয়া হয়। এটা রোগীদের জন্য ভয়ংকর।”

সেবার মান নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে আসিফ নজরুল নার্স ও কর্মচারীদের মনোভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, নার্সদের অনেক সময় খারাপ ব্যবহার ও অনীহা রোগীদের আরও কষ্ট দেয়। এর পেছনে কারণ হলো তাদের কম বেতন। তিনি বলেন, “একজন নার্স যদি মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন পান, তাহলে কি সে মন দিয়ে রোগী সেবা দেবে? অথচ হাসপাতাল মালিকদের কোটি কোটি টাকার বাগানবাড়ি আছে। কর্মীদের বেতন বাড়ানো যায় না?”

তিনি মালিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি ১০০ কোটি টাকা লাভ করেন, সেখান থেকে ১০ শতাংশ কম নিলেও কর্মীদের বেতন বাড়ানো সম্ভব। এতে সেবার মানও বাড়বে। কর্মীদের মনোবল উন্নত হলে রোগীরাও উপকৃত হবে।”

আসিফ নজরুল করোনা মহামারির সময় চিকিৎসকদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, “সেই সময়ে আপনারা জীবন উৎসর্গ করে সেবা দিয়েছেন। এটা প্রমাণ করে দেশে সক্ষমতা আছে। এখন প্রয়োজন শুধু সঠিক ব্যবস্থাপনা আর ন্যায্যতা।”

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চায় না। তারা বাধ্য হয়ে যায়। যদি দেশে আস্থা পাওয়া যায়, তবে বিদেশমুখী রোগীদের প্রবাহ বন্ধ হবে। এতে শুধু সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে না, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ও হবে।

সভায় উপস্থিত হাসপাতাল মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা লাভ করবেন, কিন্তু ন্যায্যভাবে। রোগীদের আস্থা ফেরাতে হবে, কর্মীদের প্রাপ্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে। এই খাতের বাজার আপনাদের হাতে আছে। এটা শুধু টাকার বিষয় নয়, মানুষের জীবন ও আস্থার বিষয়।”

reporter