ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

‘কথার ফুলঝুড়ি ছড়িয়ে বাজেট করিনি’ — বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা

reporter

প্রকাশিত: ০৭:১৩:০৯অপরাহ্ন , ০৩ জুন ২০২৫

আপডেট: ০৭:১৩:০৯অপরাহ্ন , ০৩ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দেশ ছিল খাদের কিনারায়, তখন দায়িত্ব নিয়েছি ক্ষমতা নয়’; সীমিত সম্পদের মধ্যে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা চলছে


২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশের পর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশ যখন গভীর সংকটে, আইসিইউতে ছিল, তখন তারা ক্ষমতা নয় বরং দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই সময় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ছিল চরম অস্থিরতায়, আর্থিক খাত ছিল দুর্বল। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং চেষ্টা করেছি একটি স্থিতিশীল অবস্থানে অর্থনীতিকে নিয়ে আসার।

মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থ উপদেষ্টা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাইজুল কবির, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মুনসুর।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সংসদ না থাকায় ২ জুন রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে বাজেট পেশ করতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি অর্থ বিলে সই করেছেন। এই বাজেটের পেছনে রয়েছে একটি বাস্তব চিত্র— আমাদের সম্পদ সীমিত, অথচ চাহিদা বহুগুণ বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতি, পুঁজিবাদী কাঠামো, বিদেশি অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি— সব কিছু মিলিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলার মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমরা বাজেটে কথার ফুলঝুড়ি ছড়াইনি। এটা বাস্তবতা নির্ভর একটি বাজেট। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে— মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, রাজস্ব ঘাটতি ইত্যাদি। সব কিছু বিবেচনায় রেখে সীমিত সম্পদের মধ্যেই এই বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তবু বাজেটের আকার বাড়ানো সম্ভব হয়নি।"

তিনি আরও বলেন, “এতদিন আপনারা কেবল প্রবৃদ্ধির ন্যারেটিভ শুনেছেন। প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে সেই প্রবৃদ্ধির সুফল জনগণের মাঝে বণ্টিত হয়নি। এবার আমরা চেয়েছি বাজেট এমনভাবে সাজাতে, যাতে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়, তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সচল থাকে। এই দিকগুলো বিবেচনায় নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।”

অর্থ উপদেষ্টা জানান, তার নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক টিম যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা চলমান থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সরকার যে পটভূমি রেখে যাবে তা ভবিষ্যতের সরকার বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি অর্থনীতিকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে যেতে। সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

সংবাদ সম্মেলনে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণের কঠোর শর্ত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস পাওয়া অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর, মূসক ও শুল্ক তিনটি খাতেই বড় ধরনের সংস্কার আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মুনসুর বলেন, মুদ্রানীতিতে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাজেট কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এটি একটি নীতির প্রতিফলন। এই বাজেটের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এই বাজেট বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল ভিত্তি লাভ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে জোর দেওয়া হবে। এ জন্য রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়ানো, করজালের বিস্তার এবং কর সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এবারের বাজেটে।

সর্বশেষে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের কাজের সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বাস্তব ও কার্যকর বাজেট প্রণয়ন করতে। ভবিষ্যতের সরকার যদি এই পথ অনুসরণ করে তাহলে আমরা যে ভিত্তি গড়ে দিচ্ছি তা আরও মজবুত হবে।”

reporter