ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন, বিএনপির রাজনীতিতে ‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট’

reporter

প্রকাশিত: ০৬:২৪:১৫অপরাহ্ন , ২২ নভেম্বর ২০২৪

আপডেট: ০৬:২৪:১৫অপরাহ্ন , ২২ নভেম্বর ২০২৪

বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

ছবি: বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

দীর্ঘ এক যুগ পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, যা তার প্রকাশ্য উপস্থিতি ছয় বছরের মধ্যে প্রথম। তবে, নানা রোগে আক্রান্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে বিএনপির টানা আন্দোলন সত্ত্বেও তিনি কেন বিদেশ যাননি, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাত্রার ক্ষেত্রে তার শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি মাল্টিপল কোমর্বিডিটিজ রয়েছে, যা বিশেষ পরিকল্পনার দাবি রাখে।

“কেবল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনা এবং তিন ঘণ্টায় সিঙ্গাপুর বা ব্যাংককে যাওয়া আমাদের ক্ষেত্রে সহজ নয়,” বলেন ডা. জাহিদ। তার মতে, সব দিক বিবেচনা করে উপযুক্ত সময়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির মুখপাত্র সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, দীর্ঘপাল্লার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করতে কিছুটা দেরি হলেও সব প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত। তিনি প্রথমে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রায় কোনো রাজনৈতিক জটিলতা নেই।”রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা শুধু স্বাস্থ্যগত নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু খালেদা জিয়া। তার উপস্থিতি দলের শক্তি বৃদ্ধি করে। তাই তিনি দেশ ছাড়লে তা বিএনপির জন্য দুর্বলতার কারণ হতে পারে।”

বিএনপির তৃণমূল এবং নেতাকর্মীদের অনেকের চাওয়া, খালেদা জিয়া দেশের ভেতরেই থাকুন। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার সঙ্গে পুরনো 'মাইনাস টু' এবং 'মাইনাস ফোর' ফর্মুলার প্রসঙ্গও উঠে আসছে। ২০০৭ সালের এক এগারোর সময় রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগে এই ধারণা আলোচিত হয়। মহিউদ্দিন আহমদের মতে, “মাইনাস ফোরের মাধ্যমে দুই পরিবারের প্রভাব থেকে রাজনীতি মুক্ত করার চিন্তা ছিল।”

বিএনপি অবশ্য এই ফর্মুলার অস্তিত্ব পুরোপুরি নাকচ করেছে। দলের মুখপাত্র সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের সরকার। এখানে মাইনাস ফর্মুলার কোনো বাস্তবতা নেই।”

রাজনৈতিক জটিলতা, স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ এবং দলের কৌশলের মধ্যে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। তবে বিএনপির রাজনীতিতে তার ভূমিকা এবং সিদ্ধান্ত দল ও দেশ দুটোর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

reporter