ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

কাশ্মীরে হামলার জবাবে সেনাবাহিনীকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিলেন মোদি

reporter

প্রকাশিত: ১১:০৪:৩৯অপরাহ্ন , ২৯ এপ্রিল ২০২৫

আপডেট: ১১:০৪:৩৯অপরাহ্ন , ২৯ এপ্রিল ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেনাবাহিনীকে প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী এক জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহানসহ অন্যান্য শীর্ষ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত করে জানান, সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। বিশ্লেষকরা এই হামলাকে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা ঘটনার পর সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সহায়ক গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনে বৈঠকে অংশ নেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ভারত সরকার ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে শুধুমাত্র পাকিস্তানি হিন্দু এবং যেসব নাগরিকের দীর্ঘমেয়াদি অনুমোদিত আবাসনের অনুমতি রয়েছে, তাদের কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে অবস্থানরত প্রায় ১,০০০ পাকিস্তানি নাগরিক দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

এছাড়াও, ভারত ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক সিন্দু পানি চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলবণ্টন চুক্তি ছিল। ওই চুক্তির অধীনে পাকিস্তান পানির যে ৮৫ শতাংশ পেত, তা এখন ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে বলে জানানো হয়। পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণার সমান’ বলে আখ্যায়িত করেছে এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্থগিত করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ দেশটির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরবর্তী কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি একাধিক বক্তব্যে জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেছেন, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সংকল্প সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি ভেঙে দেবে এবং এবার সময় এসেছে এদের সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার। তিনি আরও বলেন, ভারত এখন আর আতঙ্কে ভীত নয়, প্রতিটি ষড়যন্ত্রকারীকে খুঁজে বের করে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সেনাবাহিনীকে ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ দেওয়ার ঘোষণাকে ঘিরে গোটা অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

reporter