ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

জাকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণা শুরু, উত্তেজনায় ক্যাম্পাস

reporter

প্রকাশিত: ০৬:১৭:১২অপরাহ্ন , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:১৭:১২অপরাহ্ন , ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমেই ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি হলের ফলাফল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট ভবনে আনা হয় এবং সেখানে টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১ হাজার ৭৪৩ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। জাকসুর ২৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ৬ জন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি-সমর্থিত ছাত্রদল প্যানেলসহ মোট পাঁচটি প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। বর্জনকারী প্যানেলের মধ্যে রয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সমন্বয়ে গঠিত ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, এবং স্বতন্ত্রদের সমন্বয়ে গঠিত ‘অঙ্গীকার পরিষদ’। এ ছাড়া ছাত্র ফ্রন্টের একটি বিভক্ত অংশ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ভোটগ্রহণ বর্জনের ঘোষণা দেন।

জাকসু নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। ভোটের দিন সকাল থেকেই আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে আসেন। নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট হলে নিয়ে আসা হলে সেখানেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গণনা সম্পন্ন হয়। প্রায় দুই দিনব্যাপী এ গণনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় কমিশনের কর্মকর্তারা, প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা এবং পর্যবেক্ষকরা। অবশেষে শনিবার বিকেল থেকে একে একে ফল ঘোষণা শুরু হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন হিসেবে জাকসুর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামত প্রতিফলিত করতে এই সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কার্যত এমন একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এবারের নির্বাচন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

যদিও ভোটগ্রহণের সময় অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন প্যানেল নির্বাচন বর্জন করেছে, তবু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কঠোর তদারকি করা হয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণার পর প্রকৃত প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।

ঘোষিত ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন নেতৃত্বের সূচনা করবে বলে শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন। সিনেট ভবনে ভিড় করা অনেক শিক্ষার্থী ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জনকারীরা বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এখন পুরো ক্যাম্পাস নির্বাচনী উন্মাদনায় মুখর হয়ে আছে। সকলের দৃষ্টি এখন চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের নেতৃত্ব কারা গ্রহণ করবেন।

reporter